রংপুরের মিঠাপুকুরে স্বামীর পরকীয়া ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে মাহফুজা আক্তার মুক্তা (৩০) নামে এক গৃহবধূ বাবার বাড়িতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যার আগে স্বামীর পরকীয়া ও নির্যাতনের বিবরণ দিয়ে মুক্তার লেখা একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্য ও স্বজনদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার ঘাতক স্বামী শামীমসহ অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার ৩ নম্বর পায়রাবন্দ ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টা থেকে ৪টার মধ্যে সবার অজান্তে নিজ ঘরে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন মুক্তা। প্রায় ১০-১২ বছর আগে একই ইউনিয়নের জয়রামপুর আনোয়ার পশ্চিমপাড়া গ্রামের মো. শামীম মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, দুই সন্তান হওয়ার পর শামীম তার কর্মস্থলে এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন।
মৃতের ভাই পল্লী চিকিৎসক মনোয়ার হোসেন বলেন, ২০১৯ সালে আমাদের পরিবারের সহযোগিতায় শামীম মিয়া সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট স্কুলে অফিস সহকারী পদে চাকরি পান। কিন্তু চাকরির পর থেকেই তিনি অফিসের এক নারী সহকর্মীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। এরপর থেকেই মুক্তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। দীর্ঘদিনের এই যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আমার বোন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে।
পুলিশ নিহতের মরদেহের পাশ থেকে তার নিজ হাতে লেখা দুই পৃষ্ঠার একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে। চিঠিতে মুক্তা উল্লেখ করেছেন, অনেক চেষ্টা করেও তিনি তার সংসার টিকিয়ে রাখতে পারেননি। উদ্ধারকৃত চিরকুটে তার স্বামী, ননদ ও শাশুড়ির অমানবিক নির্যাতনের কথাও উল্লেখ রয়েছে।
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
মিঠাপুকুর প্রতিনিধি 
























