রাজধানীর মোহাম্মদপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করা কিশোর গ্যাং নেতা ইমন হোসেন (এলেক্স ইমন)-এর হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ জানায়, মূলত ছিনতাই হওয়া একটি স্মার্টফোন নিয়ে বিরোধ এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। রোববার সকালে দুই গ্রুপের মধ্যে একাধিকবার পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে, যা পরে বিকেলে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
ঘটনার পরপরই ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) অভিযান শুরু করে এবং এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন ঘটনাস্থল থেকে আটক হয় এবং পরে মামলা হলে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়, আর একজনকে পরে গ্রেপ্তার করা হয়। জব্দ করা হয়েছে চাপাতি, কাটার ও অন্যান্য ধারালো অস্ত্র।
তদন্তে জানা গেছে, ইমন দীর্ঘদিন ধরে রায়েরবাজার এলাকায় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করত এবং চাঁদাবাজি, মাদক ও ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িত ছিল। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ ‘আরমান–শাহরুখ’ গ্রুপ একই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করত। দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধই এই হত্যার মূল কারণ বলে ধারণা করছে পুলিশ।
ঘটনার দিন বিকেলে প্রতিপক্ষ গ্রুপের সদস্যরা ইমনকে ধাওয়া করে এবং রায়েরবাজারের একটি গলিতে তাকে ঘিরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণ করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আরও ১০ থেকে ১২ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এলাকায় আধিপত্য ও পূর্বের সংঘর্ষের ধারাবাহিকতাই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ।
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























