বাংলাদেশ ০৩:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo রাজধানীর শিশু হাসপাতালে আগুন, অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়াল Logo মাদাগাস্কারে জেন-জি গ্রেপ্তার: নতুন সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন Logo গরমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পান্তা ভাত খাওয়ার পরামর্শ Logo প্রশ্নফাঁস রোধে বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন : শিক্ষামন্ত্রী Logo “প্রশাসনহীন নালিতাবাড়ী: উন্নয়ন থেমে, ভোগান্তি বেড়ে” Logo জ্বালানি তেল ও এলপিজি মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ছাত্রশিবির Logo উত্তরা ব্যাংকের ব্রোকারেজ হাউজে ১৯২ কোটি টাকা বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত Logo তিতাস গ্যাসের ২৮৩ কোটি টাকার শেয়ার ইস্যুতে বিএসইসির সম্মতি Logo বাঘের তাড়া খেয়ে লোকালয়ে ঢোকা হরিণকে সুন্দরবনে অবমুক্ত Logo বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ জনের নাম ঘোষণা

ইসলামের দৃষ্টিতে বিপরীত লিঙ্গের সাদৃশ্য গ্রহণ (তাশাব্বুহ)

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত: ০৫:৩৪:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬৮ বার দেখা হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

মানবজাতিকে মহান আল্লাহ নারী ও পুরুষ—এই দুই ভিন্ন পরিচয়ে সৃষ্টি করেছেন, যাদের আলাদা বৈশিষ্ট্য, গঠন ও স্বভাব রয়েছে। ইসলাম এই স্বাভাবিক পার্থক্য ও পরিচয়কে সংরক্ষণ করতে গুরুত্ব দিয়েছে। এ কারণে এমন সব কাজকে নিষিদ্ধ বা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে, যা মানুষের স্বাভাবিক পরিচয়কে বিকৃত করে বা মুছে দেয়। বিপরীত লিঙ্গের সাদৃশ্য গ্রহণ (তাশাব্বুহ) সেই ধরনেরই একটি বিষয়।

হাদিসে কঠোর সতর্কতা

ইচ্ছাকৃতভাবে বিপরীত লিঙ্গের বেশভূষা ধারণ করা বা তাদের মতো আচরণ করা ইসলামে নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

হাদিসে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) পুরুষের বেশধারী নারী এবং নারীর বেশধারী পুরুষদের অভিসম্পাত করেছেন এবং তাদের ঘর থেকে বের করে দিতে বলেছেন। (বুখারি: ৬৮৩৪)

আরেক বর্ণনায় এসেছে, নবী (সা.) এমন পুরুষদের অভিসম্পাত করেছেন যারা নারীদের মতো আচরণ করে এবং এমন নারীদেরও অভিসম্পাত করেছেন যারা পুরুষের মতো আচরণ করে। (বুখারি: ৫৮৮৫)

ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি ও কারণ

ইসলাম অনুযায়ী আল্লাহ নারী ও পুরুষকে পৃথক বৈশিষ্ট্য দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তাই ইচ্ছাকৃতভাবে সেই পার্থক্য ভেঙে দেওয়া বা পরিবর্তন করা আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তনের শামিল, যা গুনাহ হিসেবে গণ্য হয়।

বিপরীত লিঙ্গের সাদৃশ্য শুধু পোশাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি অন্তর্ভুক্ত করে—

  • পোশাক ও সাজসজ্জা
  • কথা বলার ধরন
  • চলাফেরা ও অঙ্গভঙ্গি
  • আচরণ ও প্রকাশভঙ্গি

যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বিপরীত লিঙ্গের মতো হওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে তা এই নিষেধের অন্তর্ভুক্ত।

বিশেষ অবস্থা

তবে জন্মগত বা অপ্রতিরোধ্য কারণে কারও মধ্যে শারীরিক বা আচরণগত ভিন্নতা থাকলে সেটি ভিন্ন বিষয়। এ ধরনের ক্ষেত্রে ব্যক্তি নিজের ইচ্ছায় পরিবর্তন করছে না বলে তাকে গুনাহগার হিসেবে গণ্য করা হয় না—এমন মত আলেমদের মধ্যে রয়েছে।

কিয়ামতের সতর্কতা

হাদিসে আরও বলা হয়েছে, কিছু শ্রেণির মানুষের প্রতি কিয়ামতের দিন আল্লাহ রহমতের দৃষ্টি দেবেন না, তাদের মধ্যে রয়েছে—

  • পিতামাতার অবাধ্য সন্তান
  • পুরুষের সাদৃশ্য গ্রহণকারী নারী
  • দাইয়ুস ব্যক্তি (পরিবারের অনৈতিকতার প্রতি উদাসীন ব্যক্তি)

(সহিহুল জামে: ৩০৭১)

উপসংহার

ইচ্ছাকৃতভাবে বিপরীত লিঙ্গের সাদৃশ্য গ্রহণ ইসলামী দৃষ্টিতে নিন্দনীয় ও নিষিদ্ধ কাজ। তাই এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকা এবং সমাজে এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা জরুরি। প্রয়োজনে উপযুক্ত পরামর্শ ও সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মহান আল্লাহ সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং এমন প্রবণতা থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর শিশু হাসপাতালে আগুন, অল্পের জন্য বড় দুর্ঘটনা এড়াল

ইসলামের দৃষ্টিতে বিপরীত লিঙ্গের সাদৃশ্য গ্রহণ (তাশাব্বুহ)

প্রকাশিত: ০৫:৩৪:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

মানবজাতিকে মহান আল্লাহ নারী ও পুরুষ—এই দুই ভিন্ন পরিচয়ে সৃষ্টি করেছেন, যাদের আলাদা বৈশিষ্ট্য, গঠন ও স্বভাব রয়েছে। ইসলাম এই স্বাভাবিক পার্থক্য ও পরিচয়কে সংরক্ষণ করতে গুরুত্ব দিয়েছে। এ কারণে এমন সব কাজকে নিষিদ্ধ বা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে, যা মানুষের স্বাভাবিক পরিচয়কে বিকৃত করে বা মুছে দেয়। বিপরীত লিঙ্গের সাদৃশ্য গ্রহণ (তাশাব্বুহ) সেই ধরনেরই একটি বিষয়।

হাদিসে কঠোর সতর্কতা

ইচ্ছাকৃতভাবে বিপরীত লিঙ্গের বেশভূষা ধারণ করা বা তাদের মতো আচরণ করা ইসলামে নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

হাদিসে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) পুরুষের বেশধারী নারী এবং নারীর বেশধারী পুরুষদের অভিসম্পাত করেছেন এবং তাদের ঘর থেকে বের করে দিতে বলেছেন। (বুখারি: ৬৮৩৪)

আরেক বর্ণনায় এসেছে, নবী (সা.) এমন পুরুষদের অভিসম্পাত করেছেন যারা নারীদের মতো আচরণ করে এবং এমন নারীদেরও অভিসম্পাত করেছেন যারা পুরুষের মতো আচরণ করে। (বুখারি: ৫৮৮৫)

ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি ও কারণ

ইসলাম অনুযায়ী আল্লাহ নারী ও পুরুষকে পৃথক বৈশিষ্ট্য দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। তাই ইচ্ছাকৃতভাবে সেই পার্থক্য ভেঙে দেওয়া বা পরিবর্তন করা আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তনের শামিল, যা গুনাহ হিসেবে গণ্য হয়।

বিপরীত লিঙ্গের সাদৃশ্য শুধু পোশাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি অন্তর্ভুক্ত করে—

  • পোশাক ও সাজসজ্জা
  • কথা বলার ধরন
  • চলাফেরা ও অঙ্গভঙ্গি
  • আচরণ ও প্রকাশভঙ্গি

যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বিপরীত লিঙ্গের মতো হওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে তা এই নিষেধের অন্তর্ভুক্ত।

বিশেষ অবস্থা

তবে জন্মগত বা অপ্রতিরোধ্য কারণে কারও মধ্যে শারীরিক বা আচরণগত ভিন্নতা থাকলে সেটি ভিন্ন বিষয়। এ ধরনের ক্ষেত্রে ব্যক্তি নিজের ইচ্ছায় পরিবর্তন করছে না বলে তাকে গুনাহগার হিসেবে গণ্য করা হয় না—এমন মত আলেমদের মধ্যে রয়েছে।

কিয়ামতের সতর্কতা

হাদিসে আরও বলা হয়েছে, কিছু শ্রেণির মানুষের প্রতি কিয়ামতের দিন আল্লাহ রহমতের দৃষ্টি দেবেন না, তাদের মধ্যে রয়েছে—

  • পিতামাতার অবাধ্য সন্তান
  • পুরুষের সাদৃশ্য গ্রহণকারী নারী
  • দাইয়ুস ব্যক্তি (পরিবারের অনৈতিকতার প্রতি উদাসীন ব্যক্তি)

(সহিহুল জামে: ৩০৭১)

উপসংহার

ইচ্ছাকৃতভাবে বিপরীত লিঙ্গের সাদৃশ্য গ্রহণ ইসলামী দৃষ্টিতে নিন্দনীয় ও নিষিদ্ধ কাজ। তাই এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকা এবং সমাজে এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা জরুরি। প্রয়োজনে উপযুক্ত পরামর্শ ও সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মহান আল্লাহ সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন এবং এমন প্রবণতা থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

kalprakash.com/SS