বাংলাদেশ ০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

সুনো এআই–কে ঘিরে কপিরাইট আতঙ্ক: নকল গান তৈরির অভিযোগ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সংগীত তৈরির প্ল্যাটফর্ম সুনো–কে কেন্দ্র করে কপিরাইট লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সামান্য কারসাজিতেই জনপ্রিয় গানের প্রায় হুবহু অনুকরণ তৈরি করা সম্ভব হওয়ায় শিল্পীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নীতিগতভাবে সুনো দাবি করে, তারা কপিরাইটযুক্ত গান ব্যবহার করতে দেয় না। ব্যবহারকারীরা নিজেদের লেখা লিরিক্স বা অডিও আপলোড করে নতুন গান তৈরি করতে পারেন। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অডিও সফটওয়্যার ব্যবহার করে গানের গতি সামান্য পরিবর্তন বা শুরুতে কিছু ‘নয়েজ’ যোগ করলেই মূল গান অনুকরণ করে নতুন এআই গান তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।

শুধু সুর নয়, গীতিকবিতার ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সামান্য বানান পরিবর্তন করলেই কপিরাইট সুরক্ষা ভেঙে ফেলা যাচ্ছে, ফলে এআই কণ্ঠে শিল্পীর মতো শোনানো গান তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের প্রযুক্তি অপব্যবহার করে কেউ সহজেই গান স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে আপলোড করে আয় করতে পারে, যা মূল শিল্পীদের রয়্যালটি ক্ষতির ঝুঁকিতে ফেলছে। ইতিমধ্যেই কিছু স্বাধীন শিল্পী অভিযোগ করেছেন, তাদের গান এআই দিয়ে নকল হয়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়েছে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে নকল গান শিল্পীর নিজস্ব প্রোফাইলেও যুক্ত হয়েছে।

সংগীত স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম স্পটিফাই জানিয়েছে, তারা শিল্পীদের অধিকার রক্ষায় স্বয়ংক্রিয় ও মানবিক পর্যালোচনা ব্যবস্থার মাধ্যমে সন্দেহজনক কনটেন্ট শনাক্ত করছে। তবে দ্রুত বাড়তে থাকা এআই–নির্ভর কনটেন্টের চাপ সামলানো এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশ্লেষকেরা মনে করেন, সুনো একা নয়; পুরো এআই সংগীত ইকোসিস্টেমে নিয়ন্ত্রণ ঘাটতি রয়েছে। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কপিরাইট সুরক্ষার নতুন কাঠামো না আনলে ভবিষ্যতে এই সমস্যা আরও প্রকট হবে।

সুনোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

সুনো এআই–কে ঘিরে কপিরাইট আতঙ্ক: নকল গান তৈরির অভিযোগ

প্রকাশিত: ০৪:২৪:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সংগীত তৈরির প্ল্যাটফর্ম সুনো–কে কেন্দ্র করে কপিরাইট লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সামান্য কারসাজিতেই জনপ্রিয় গানের প্রায় হুবহু অনুকরণ তৈরি করা সম্ভব হওয়ায় শিল্পীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নীতিগতভাবে সুনো দাবি করে, তারা কপিরাইটযুক্ত গান ব্যবহার করতে দেয় না। ব্যবহারকারীরা নিজেদের লেখা লিরিক্স বা অডিও আপলোড করে নতুন গান তৈরি করতে পারেন। তবে বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অডিও সফটওয়্যার ব্যবহার করে গানের গতি সামান্য পরিবর্তন বা শুরুতে কিছু ‘নয়েজ’ যোগ করলেই মূল গান অনুকরণ করে নতুন এআই গান তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।

শুধু সুর নয়, গীতিকবিতার ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সামান্য বানান পরিবর্তন করলেই কপিরাইট সুরক্ষা ভেঙে ফেলা যাচ্ছে, ফলে এআই কণ্ঠে শিল্পীর মতো শোনানো গান তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের প্রযুক্তি অপব্যবহার করে কেউ সহজেই গান স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে আপলোড করে আয় করতে পারে, যা মূল শিল্পীদের রয়্যালটি ক্ষতির ঝুঁকিতে ফেলছে। ইতিমধ্যেই কিছু স্বাধীন শিল্পী অভিযোগ করেছেন, তাদের গান এআই দিয়ে নকল হয়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়েছে, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে নকল গান শিল্পীর নিজস্ব প্রোফাইলেও যুক্ত হয়েছে।

সংগীত স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম স্পটিফাই জানিয়েছে, তারা শিল্পীদের অধিকার রক্ষায় স্বয়ংক্রিয় ও মানবিক পর্যালোচনা ব্যবস্থার মাধ্যমে সন্দেহজনক কনটেন্ট শনাক্ত করছে। তবে দ্রুত বাড়তে থাকা এআই–নির্ভর কনটেন্টের চাপ সামলানো এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশ্লেষকেরা মনে করেন, সুনো একা নয়; পুরো এআই সংগীত ইকোসিস্টেমে নিয়ন্ত্রণ ঘাটতি রয়েছে। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কপিরাইট সুরক্ষার নতুন কাঠামো না আনলে ভবিষ্যতে এই সমস্যা আরও প্রকট হবে।

সুনোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।

kalprakash.com/SS