বাংলাদেশ ০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

বাবার আবেদনে ছেলের মৃত্য কার্যকর

ভারতে প্রথমবারের মতো আদালতের অনুমতিতে ‘পরোক্ষ মৃত্যু’ (প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া) কার্যকর হয়েছে। এতে দীর্ঘ ১৩ বছর কোমায় থাকা হরিশ রানা নামের ৩২ বছর বয়সী যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (এইমস) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলার পর তাকে প্যালিয়েটিভ কেয়ারে রাখা হয়েছিল।

এর আগে, হরিশের মা-বাবা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করলে ১১ মার্চ আদালত তাকে ‘মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকার’ দেন। মৃত্যু কার্যকরের জন্য ১৪ মার্চ হরিশ রানাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুইদিন পর ধাপে ধাপে লাইফ সাপোর্ট সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১১ দিনের মাথায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।

হাসপাতাল সূত্র থেকে জানা যায়, মৃত্যুর পর কর্নিয়া, হার্ট ভালভসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন টিস্যু ও অঙ্গ দান করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন হরিশের পরিবার।

২০১৩ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে একটি ছাত্রাবাসের চারতলা থেকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান রানা। দুর্ঘটনার পর থেকেই তিনি কোমায় ছিলেন। বিছানায় শয্যাশায়ী অবস্থায় তাকে ট্রাকোস্টমি ও গ্যাস্ট্রোজেজুনোস্টমি টিউবের মাধ্যমে শ্বাসপ্রশ্বাস এবং খাদ্য দেওয়া হতো। বহু বছর ধরে সুস্থতার আশা ক্ষীণ হয়ে আসার পর তার মা-বাবা মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যুর আকুতি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে অরুণা শানবাগ মামলায় ভারতে ‘পরোক্ষ মৃত্যু’ বৈধতা পেলেও তা কার্যকর হয়নি। ফলে হরিশ রানার ক্ষেত্রেই প্রথমবারের মতো এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হলো।

সূত্র: আল জাজিরা

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

বাবার আবেদনে ছেলের মৃত্য কার্যকর

প্রকাশিত: ০২:৩৮:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

ভারতে প্রথমবারের মতো আদালতের অনুমতিতে ‘পরোক্ষ মৃত্যু’ (প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া) কার্যকর হয়েছে। এতে দীর্ঘ ১৩ বছর কোমায় থাকা হরিশ রানা নামের ৩২ বছর বয়সী যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিকেলে দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসে (এইমস) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাইফ সাপোর্ট খুলে ফেলার পর তাকে প্যালিয়েটিভ কেয়ারে রাখা হয়েছিল।

এর আগে, হরিশের মা-বাবা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করলে ১১ মার্চ আদালত তাকে ‘মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকার’ দেন। মৃত্যু কার্যকরের জন্য ১৪ মার্চ হরিশ রানাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দুইদিন পর ধাপে ধাপে লাইফ সাপোর্ট সরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১১ দিনের মাথায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন।

হাসপাতাল সূত্র থেকে জানা যায়, মৃত্যুর পর কর্নিয়া, হার্ট ভালভসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন টিস্যু ও অঙ্গ দান করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন হরিশের পরিবার।

২০১৩ সালে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে একটি ছাত্রাবাসের চারতলা থেকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান রানা। দুর্ঘটনার পর থেকেই তিনি কোমায় ছিলেন। বিছানায় শয্যাশায়ী অবস্থায় তাকে ট্রাকোস্টমি ও গ্যাস্ট্রোজেজুনোস্টমি টিউবের মাধ্যমে শ্বাসপ্রশ্বাস এবং খাদ্য দেওয়া হতো। বহু বছর ধরে সুস্থতার আশা ক্ষীণ হয়ে আসার পর তার মা-বাবা মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যুর আকুতি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন।

প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে অরুণা শানবাগ মামলায় ভারতে ‘পরোক্ষ মৃত্যু’ বৈধতা পেলেও তা কার্যকর হয়নি। ফলে হরিশ রানার ক্ষেত্রেই প্রথমবারের মতো এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হলো।

সূত্র: আল জাজিরা