বাংলাদেশ ০৩:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo মারিশ্যায় বিজিবির অভিযানে বিদেশি মদ, সিগারেট ও কসমেটিকস উদ্ধার Logo পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য প্রফেসর ড. ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার Logo মা ও শিশুর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার, স্বামী পুলিশের হেফাজতে Logo পাবনায় মাদক সেবনের দায়ে এক যুবকের ২ মাসের কারাদণ্ড Logo দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে কৃষক দল নেতা নিহত, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বিএনপি নেতা Logo অযৌক্তিক ফি বৃদ্ধি বন্ধের দাবিতে তেজগাঁও কলেজ ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ Logo বাজারে তীব্র যানজট, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ Logo মাদকবিরোধী অভিযানে সাফল্য: ইয়াবাসহ স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার Logo কাপ্তাই হ্রদে নৌভ্রমণের সময় চবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু Logo জাবির সমাজবিজ্ঞান অনুষদের নতুন ডিন শরিফুল হুদা

ইসলামে জ্ঞানার্জন: কোরআন ও হাদিসে গুরুত্বের দিকনির্দেশনা

সংগৃহীত ছবি

ইসলামে জ্ঞানার্জনকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও অপরিহার্য ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। মানবজাতির পথনির্দেশনা হিসেবে নাজিল হওয়া পবিত্র কোরআনের প্রথম অবতীর্ণ আয়াতেই শিক্ষার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

হেরা পর্বতে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) প্রথম যে ওহি নিয়ে আসেন, তা ছিল সুরা আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত। সেখানে বলা হয়েছে, পড়, তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জমাট রক্ত থেকে। পড়, আর তোমার প্রতিপালকই সর্বশ্রেষ্ঠ, যিনি কলমের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছেন এবং মানুষকে এমন জ্ঞান দিয়েছেন যা সে আগে জানত না।

এই আয়াতগুলো ইসলামে জ্ঞানার্জনের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। যদিও মহানবী (সা.) নিজে অক্ষরজ্ঞানহীন ছিলেন, তবুও আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত কোরআনের মাধ্যমে তিনি মানবজাতির জন্য জ্ঞান ও আলোর দিশারি হয়ে ওঠেন।

কোরআনে আরও বলা হয়েছে, আল্লাহ নিরক্ষরদের মধ্য থেকে তাদেরই একজন রাসুল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে আল্লাহর আয়াত পাঠ করেন, তাদের পরিশুদ্ধ করেন এবং কিতাব ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেন। এর মাধ্যমে ইসলাম শিক্ষা ও আত্মশুদ্ধিকে একসাথে গুরুত্ব দিয়েছে।

ইসলামি শিক্ষার মূল বার্তা হলো, জ্ঞান ছাড়া মানবজীবনের পূর্ণতা অর্জন সম্ভব নয়। শিক্ষা অজ্ঞতা ও অন্ধকার দূর করে মানুষকে উন্নতি ও কল্যাণের পথে নিয়ে যায়। তাই ধর্মীয় ও জাগতিক উভয় জ্ঞান অর্জনের ওপর ইসলাম বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে।

হাদিসে বলা হয়েছে, জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ। এছাড়া কোরআনেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যদি তোমরা না জানো তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা কর।

ইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকেই মুসলিম মনীষীরা শিশুদের জ্ঞানচর্চায় উৎসাহ দিয়েছেন। তারা বিশ্বাস করতেন, আজকের শিক্ষার্থীই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই শৈশব থেকেই শিক্ষা গ্রহণ ও তা সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হতো।

ইসলামি দৃষ্টিকোণে শিক্ষা কেবল জীবিকার মাধ্যম নয়, বরং এটি নৈতিকতা, আত্মশুদ্ধি ও মানবতার উন্নয়নের মূল হাতিয়ার। তাই মুসলিম সমাজে ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি জাতির উন্নতি নির্ভর করে তার শিক্ষার মানের ওপর। তাই ইসলামের মূল শিক্ষা অনুসরণ করে জ্ঞানার্জনে আগ্রহী হওয়া এবং নতুন প্রজন্মকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলা সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

লেখক: ইসলামি গবেষক

kalprakash.com/SS

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
ইসলামে জ্ঞানার্জন: কোরআন ও হাদিসে গুরুত্বের দিকনির্দেশনা
জনপ্রিয় সংবাদ

মারিশ্যায় বিজিবির অভিযানে বিদেশি মদ, সিগারেট ও কসমেটিকস উদ্ধার

ইসলামে জ্ঞানার্জন: কোরআন ও হাদিসে গুরুত্বের দিকনির্দেশনা

প্রকাশিত: ০৫:৩৭:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

ইসলামে জ্ঞানার্জনকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও অপরিহার্য ইবাদত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। মানবজাতির পথনির্দেশনা হিসেবে নাজিল হওয়া পবিত্র কোরআনের প্রথম অবতীর্ণ আয়াতেই শিক্ষার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

হেরা পর্বতে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) প্রথম যে ওহি নিয়ে আসেন, তা ছিল সুরা আলাকের প্রথম পাঁচ আয়াত। সেখানে বলা হয়েছে, পড়, তোমার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জমাট রক্ত থেকে। পড়, আর তোমার প্রতিপালকই সর্বশ্রেষ্ঠ, যিনি কলমের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছেন এবং মানুষকে এমন জ্ঞান দিয়েছেন যা সে আগে জানত না।

এই আয়াতগুলো ইসলামে জ্ঞানার্জনের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত। যদিও মহানবী (সা.) নিজে অক্ষরজ্ঞানহীন ছিলেন, তবুও আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত কোরআনের মাধ্যমে তিনি মানবজাতির জন্য জ্ঞান ও আলোর দিশারি হয়ে ওঠেন।

কোরআনে আরও বলা হয়েছে, আল্লাহ নিরক্ষরদের মধ্য থেকে তাদেরই একজন রাসুল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে আল্লাহর আয়াত পাঠ করেন, তাদের পরিশুদ্ধ করেন এবং কিতাব ও প্রজ্ঞা শিক্ষা দেন। এর মাধ্যমে ইসলাম শিক্ষা ও আত্মশুদ্ধিকে একসাথে গুরুত্ব দিয়েছে।

ইসলামি শিক্ষার মূল বার্তা হলো, জ্ঞান ছাড়া মানবজীবনের পূর্ণতা অর্জন সম্ভব নয়। শিক্ষা অজ্ঞতা ও অন্ধকার দূর করে মানুষকে উন্নতি ও কল্যাণের পথে নিয়ে যায়। তাই ধর্মীয় ও জাগতিক উভয় জ্ঞান অর্জনের ওপর ইসলাম বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে।

হাদিসে বলা হয়েছে, জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ। এছাড়া কোরআনেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যদি তোমরা না জানো তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা কর।

ইসলামের প্রাথমিক যুগ থেকেই মুসলিম মনীষীরা শিশুদের জ্ঞানচর্চায় উৎসাহ দিয়েছেন। তারা বিশ্বাস করতেন, আজকের শিক্ষার্থীই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই শৈশব থেকেই শিক্ষা গ্রহণ ও তা সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হতো।

ইসলামি দৃষ্টিকোণে শিক্ষা কেবল জীবিকার মাধ্যম নয়, বরং এটি নৈতিকতা, আত্মশুদ্ধি ও মানবতার উন্নয়নের মূল হাতিয়ার। তাই মুসলিম সমাজে ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি জাতির উন্নতি নির্ভর করে তার শিক্ষার মানের ওপর। তাই ইসলামের মূল শিক্ষা অনুসরণ করে জ্ঞানার্জনে আগ্রহী হওয়া এবং নতুন প্রজন্মকে শিক্ষিত করে গড়ে তোলা সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

লেখক: ইসলামি গবেষক

kalprakash.com/SS

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
ইসলামে জ্ঞানার্জন: কোরআন ও হাদিসে গুরুত্বের দিকনির্দেশনা