পঞ্চগড় সদর উপজেলার ৬ নম্বর সাতমেড়া ইউনিয়নের জোতসাওদা গ্রামে অবস্থিত সরকারি স্লুইসগেটটি সংস্কার ও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ২০০২ সালে নির্মিত ২৪ বছরের পুরোনো এই অবকাঠামোটি বর্তমানে অযত্ন ও অব্যবস্থাপনায় প্রায় অকার্যকর। ফলে বিস্তীর্ণ আবাদি জমিতে তীব্র সেচসংকট দেখা দিয়েছে এবং ফসল রক্ষা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় শত শত কৃষক।
সরেজমিনে জানা যায়, জোতসাওদা গ্রামের এই স্লুইসগেটটি দীর্ঘ দুই দশক ধরে স্থানীয় কৃষি উৎপাদনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছিল। তবে দীর্ঘদিন পরিচর্যা ও মেরামত না করায় বর্তমানে এর একাধিক কপাট (পাল্লা) ফুটো হয়ে গেছে। গেট বন্ধ করলেও উজানের পানি ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। সেচের অভাবে আশপাশের বিস্তীর্ণ আবাদি জমি শুকিয়ে চৌচির হয়ে যাচ্ছে, যা চলতি মৌসুমে কৃষি উৎপাদনে মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় কৃষকেরা আক্ষেপ করে জানান, পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা না থাকায় তাঁদের আবাদি জমি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পরিচালনা কমিটি কোনো খোঁজখবরই নেয় না। দ্রুত এটি মেরামত করা না হলে সামনে না খেয়ে থাকা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।
শুধু মূল স্লুইসগেটই নয়, এটি ও বাঁধ পরিচালনার সুবিধার্থে সমবায় সমিতির জন্য নির্মিত ভবনটিও দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এ ছাড়া স্লুইসগেটের আশপাশে বন বিভাগের রোপণ করা মূল্যবান গাছপালাও সঠিক তদারকির অভাবে ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, স্লুইসগেট রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা পরিচালনা কমিটি চরম নিষ্ক্রিয়। জরাজীর্ণ দশা ও তীব্র পানি সংকটের কথা বারবার জানানো হলেও তারা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত স্লুইসগেট ও বাঁধ মেরামত করা না হলে আগামী বর্ষা বা বন্যায় পুরো এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে। সরকারি সম্পদ রক্ষা ও হাজারো কৃষকের জীবিকা বাঁচাতে তারা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এদিকে বীর বাঁধ ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন জানান, দীর্ঘদিন ব্যবস্থাপনা কমিটি ছিল না। তাঁরা দায়িত্ব নেওয়ার পরেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বাঁধটি সংস্কারের জন্য মৌখিক আবেদন জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফাহমিদা সুলতানা জানান, বিষয়টি পর্যবেক্ষণের জন্য উপজেলা প্রকৌশলী রমজান আলীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
kalprakash.com/IM