বাংলাদেশ ০৯:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

জান্নাতি পাথর হাজরে আসওয়াদ

  • অনলাইন ডেস্ক
  • প্রকাশিত: ০৫:২৯:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৬৬ বার দেখা হয়েছে

সংগৃহীত ছবি

 

কাবাঘরের দেয়ালে বিশেষভাবে স্থাপনকৃত একটি পাথরের নাম হাজরে আসওয়াদ। আরবি হাজর শব্দের অর্থ পাথর এবং আসওয়াদ শব্দের অর্থ কালো। অর্থাৎ কালো পাথর। হাজরে আসওয়াদ বেহেশতের মর্যাদাপূর্ণ একটি পাথর। হজযাত্রীরা হজ করতে গিয়ে এতে সরাসরি বা ইশারার মাধ্যমে চুম্বন করে থাকেন।

হাজরে আসওয়াদের কিছু বৈশিষ্ট্য
হাদিসের গ্রন্থগুলোতে হাজরে আসওয়াদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অনেক আলোচনা এসেছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, হাজরে আসওয়াদ একটি জান্নাতি পাথর। এর রং দুধের চেয়েও বেশি সাদা ছিল। পরে বনি আদমের পাপরাশি এটিকে কালো করে দিয়েছে। (জামে তিরমিজি, হাদিস: ৮৭৭)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হাজরে আসওয়াদ জান্নাতেরই একটি অংশ। (ইবনে খুজায়মা, ৪/২২০)

হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করার ফজিলত
হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা বরকতময়। রাসুল (সা.) বলেছেন, কেয়ামতের দিন এ পাথরটি আবু কুবাইস পাহাড় থেকে বড় আকার ধারণ করে উপস্থিত হবে। এর একটি জিহ্বা ও দুটি ঠোঁট থাকবে এবং কে কোন নিয়তে তাকে চুম্বন করেছে সে সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবে। (ইবনে খুজায়মা: ৪/২২১, মুসতাদরাকে হাকেম: ১/৪৫৭)

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-কে হাজরে আসওয়াদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে এটি স্পর্শ ও চুম্বন করতে দেখেছি। (মুসলিম, হাদিস: ১২৬৭)

হাজরে আসওয়াদের ঐতিহাসিক তথ্য
ইসলামপূর্ব কোরাইশদের যুগে কাবা শরিফের গিলাফ যখন পুড়ে গিয়েছিল, তখন হাজরে আসওয়াদও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তার কালো রং আরও গাঢ় হয়ে যায়। রাসুল (সা.)-এর নবুয়তের পূর্বে কাবা পুনর্নির্মাণের সময় হাজরে আসওয়াদ কে স্থাপন করবেন, তা নিয়ে কোরাইশদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

তখন মহানবী (সা.) নিজের গায়ের চাদর খুলে তাতে হাজরে আসওয়াদ রেখে সব গোত্রপ্রধানকে চাদর ধরতে বলেন। তারা চাদরটি ধরে কাবা প্রাঙ্গণে নিয়ে গেলে নবী করিম (সা.) নিজ হাতে পাথরটি যথাস্থানে স্থাপন করেন এবং বিরোধের অবসান ঘটান।

আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইর (রা.)-এর শাসনামলে হাজরে আসওয়াদ ভেঙে তিন টুকরো হয়ে যায়। তখন তিনি তা রুপা দিয়ে বাঁধাই করেন এবং এ কাজটি সর্বপ্রথম তিনিই করেন।

১৭৯ হিজরিতে আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদ হাজরে আসওয়াদে ছিদ্র করে রুপা দিয়ে ঢালাই করেন।

৩১৭ হিজরিতে কারামতিয়ারা হারাম শরিফে আক্রমণ করে হাজরে আসওয়াদ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে ৩৩২ হিজরিতে তা ফিরিয়ে এনে চুন দিয়ে চারপাশে সংযোজন করা হয়।

৪১৩ হিজরিতে এক নাস্তিক ব্যক্তি লৌহশলাকা দিয়ে হাজরে আসওয়াদের ওপর আঘাত করলে তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে বনি শায়বার লোকেরা টুকরোগুলো একত্র করে কস্তুরী দিয়ে ধুয়ে পুনরায় সংযুক্ত করেন।

১৩৩১ হিজরিতে সুলতান মুহাম্মদ রাশাদ হাজরে আসওয়াদের চারপাশে নতুন রুপার বেষ্টনী নির্মাণ করেন।

১৩৫১ হিজরির ১৮ এপ্রিল বাদশাহ আবদুল আজিজ আলেম-ওলামাদের সঙ্গে কাবা শরিফে উপস্থিত হয়ে হাজরে আসওয়াদের অবস্থান মজবুত করার জন্য তাতে মূল্যবান উপাদান সংযোজন করেন।

১৪১৭ হিজরিতে পবিত্র কাবাঘরের সঙ্গে হাজরে আসওয়াদেও নতুন রুপার বেষ্টনী স্থাপন করা হয়।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

জান্নাতি পাথর হাজরে আসওয়াদ

প্রকাশিত: ০৫:২৯:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

 

কাবাঘরের দেয়ালে বিশেষভাবে স্থাপনকৃত একটি পাথরের নাম হাজরে আসওয়াদ। আরবি হাজর শব্দের অর্থ পাথর এবং আসওয়াদ শব্দের অর্থ কালো। অর্থাৎ কালো পাথর। হাজরে আসওয়াদ বেহেশতের মর্যাদাপূর্ণ একটি পাথর। হজযাত্রীরা হজ করতে গিয়ে এতে সরাসরি বা ইশারার মাধ্যমে চুম্বন করে থাকেন।

হাজরে আসওয়াদের কিছু বৈশিষ্ট্য
হাদিসের গ্রন্থগুলোতে হাজরে আসওয়াদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অনেক আলোচনা এসেছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, হাজরে আসওয়াদ একটি জান্নাতি পাথর। এর রং দুধের চেয়েও বেশি সাদা ছিল। পরে বনি আদমের পাপরাশি এটিকে কালো করে দিয়েছে। (জামে তিরমিজি, হাদিস: ৮৭৭)

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হাজরে আসওয়াদ জান্নাতেরই একটি অংশ। (ইবনে খুজায়মা, ৪/২২০)

হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করার ফজিলত
হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা বরকতময়। রাসুল (সা.) বলেছেন, কেয়ামতের দিন এ পাথরটি আবু কুবাইস পাহাড় থেকে বড় আকার ধারণ করে উপস্থিত হবে। এর একটি জিহ্বা ও দুটি ঠোঁট থাকবে এবং কে কোন নিয়তে তাকে চুম্বন করেছে সে সম্পর্কে সাক্ষ্য দেবে। (ইবনে খুজায়মা: ৪/২২১, মুসতাদরাকে হাকেম: ১/৪৫৭)

আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-কে হাজরে আসওয়াদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে এটি স্পর্শ ও চুম্বন করতে দেখেছি। (মুসলিম, হাদিস: ১২৬৭)

হাজরে আসওয়াদের ঐতিহাসিক তথ্য
ইসলামপূর্ব কোরাইশদের যুগে কাবা শরিফের গিলাফ যখন পুড়ে গিয়েছিল, তখন হাজরে আসওয়াদও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তার কালো রং আরও গাঢ় হয়ে যায়। রাসুল (সা.)-এর নবুয়তের পূর্বে কাবা পুনর্নির্মাণের সময় হাজরে আসওয়াদ কে স্থাপন করবেন, তা নিয়ে কোরাইশদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

তখন মহানবী (সা.) নিজের গায়ের চাদর খুলে তাতে হাজরে আসওয়াদ রেখে সব গোত্রপ্রধানকে চাদর ধরতে বলেন। তারা চাদরটি ধরে কাবা প্রাঙ্গণে নিয়ে গেলে নবী করিম (সা.) নিজ হাতে পাথরটি যথাস্থানে স্থাপন করেন এবং বিরোধের অবসান ঘটান।

আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইর (রা.)-এর শাসনামলে হাজরে আসওয়াদ ভেঙে তিন টুকরো হয়ে যায়। তখন তিনি তা রুপা দিয়ে বাঁধাই করেন এবং এ কাজটি সর্বপ্রথম তিনিই করেন।

১৭৯ হিজরিতে আব্বাসীয় খলিফা হারুনুর রশিদ হাজরে আসওয়াদে ছিদ্র করে রুপা দিয়ে ঢালাই করেন।

৩১৭ হিজরিতে কারামতিয়ারা হারাম শরিফে আক্রমণ করে হাজরে আসওয়াদ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে ৩৩২ হিজরিতে তা ফিরিয়ে এনে চুন দিয়ে চারপাশে সংযোজন করা হয়।

৪১৩ হিজরিতে এক নাস্তিক ব্যক্তি লৌহশলাকা দিয়ে হাজরে আসওয়াদের ওপর আঘাত করলে তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে বনি শায়বার লোকেরা টুকরোগুলো একত্র করে কস্তুরী দিয়ে ধুয়ে পুনরায় সংযুক্ত করেন।

১৩৩১ হিজরিতে সুলতান মুহাম্মদ রাশাদ হাজরে আসওয়াদের চারপাশে নতুন রুপার বেষ্টনী নির্মাণ করেন।

১৩৫১ হিজরির ১৮ এপ্রিল বাদশাহ আবদুল আজিজ আলেম-ওলামাদের সঙ্গে কাবা শরিফে উপস্থিত হয়ে হাজরে আসওয়াদের অবস্থান মজবুত করার জন্য তাতে মূল্যবান উপাদান সংযোজন করেন।

১৪১৭ হিজরিতে পবিত্র কাবাঘরের সঙ্গে হাজরে আসওয়াদেও নতুন রুপার বেষ্টনী স্থাপন করা হয়।

kalprakash.com/SS