খুলনায় স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের জেরে সম্রাট বিশ্বাস (কনস্টেবল) নামে এক পুলিশ সদস্য আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি খুলনা রেলওয়ে পুলিশে কর্মরত ছিলেন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোরে খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার (দ্বিতীয় পর্যায়) খুলনা রেলওয়ে জেলা কার্যালয়ের অস্ত্রাগারে দায়িত্ব পালনকালে নিজ ইস্যুকৃত রাইফেল দিয়ে নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন তিনি।
নিহত সম্রাট বিশ্বাস গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার চরপদ্মবিলা গ্রামের শৈলেন বিশ্বাসের ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে সম্রাটের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সম্রাট ছিলেন সবার ছোট। ২০১৮ সালে তিনি পুলিশে কনস্টেবল পদে যোগ দেন। চাকরির সময় তিনি সাতক্ষীরা জেলা পুলিশে কর্মরত নারী কনস্টেবল পুঁজা দাশের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরবর্তীতে পরিবারের সম্মতিতে ছয় মাস আগে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। আগামী মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের আয়োজনের কথা ছিল।
তবে গত কয়েকদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল বলে জানা যায়। পরিবারের দাবি, ঘটনার আগের রাতে স্ত্রীর সঙ্গে তার ঝগড়া হয় এবং এর জেরেই তিনি আত্মহত্যা করেন।
সম্রাটের মামা সত্যজিৎ রায় বলেন, বিয়ের পর থেকেই দাম্পত্য জীবনে সমস্যা চলছিল। গতরাতে ফোনে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এরপরই এ ঘটনা ঘটে।
সম্রাটের দুলাভাই বিপ্লব কুমার সেন বলেন, পরিবারের সঙ্গে তার কোনো বিরোধ ছিল না। তবে স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঝগড়া চলছিল। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার বিচার চাই।
খুলনা রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার আহমেদ মাঈনুল হাসান জানান, ভোর সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে অস্ত্রাগার এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে সম্রাট নিজের ইস্যুকৃত চাইনিজ রাইফেল দিয়ে মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেন।
ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
kalprakash.com/SS
নিজস্ব প্রতিবেদক 
























