বাগেরহাট সদর উপজেলার চাঁপাতলা গ্রামে জানালা ভেঙে ঘরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে স্বামী-স্ত্রীকে জিম্মি করে প্রায় ১৮ লাখ ৮০ হাজার টাকার সম্পদ লুটের ঘটনায় মূলহোতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় লুণ্ঠিত নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও গলিত স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে বাগেরহাট সদর উপজেলার ৬ নম্বর যাত্রাপুর ইউনিয়নের চাঁপাতলা পূর্বপাড়া গ্রামের শেখ আতিয়ার রহমানের বাড়িতে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। মুখোশধারী তিনজন দুর্বৃত্ত জানালা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে আতিয়ার রহমান ও তাঁর স্ত্রীর হাত বেঁধে ফেলে। পরে স্টিলের আলমারি ভেঙে ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা, সাত ভরি স্বর্ণালংকার ও একটি বাটন মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছেলে শেখ ওমর ফারুক বাদী হয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটির তদন্তভার নেয় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
তদন্তের অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নড়াইল ও ঢাকায় পৃথক অভিযান চালায় ডিবি।
গত ৪ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে নড়াইলের লোহাগড়া এলাকা থেকে মো. হাসিব শেখকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত ১ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। একই দিন রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে মো. ইনামুল বিশ্বাস ওরফে এনা (৩৭) গ্রেফতার হন। তাঁর কাছ থেকে লুট হওয়া একটি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
পরদিন ৫ নভেম্বর রাত ১২টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে আব্দুর নূর তুষার ওরফে হৃদয়কে (৩১) গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ তাঁকে এ ঘটনার মূলহোতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তাঁর ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালিয়ে আরও ৩০ হাজার ১০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের তথ্যমতে, হৃদয়ের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, দস্যুতা ও চুরিসংক্রান্ত নয়টি মামলা রয়েছে।
এ ছাড়া লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার কেনার অভিযোগে আব্দুর রশিদ (৩২) নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে গলিত অবস্থায় ২ ভরি ৫ আনা স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার চারজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ডাকাতির ঘটনায় জড়িত অন্য কোনো ব্যক্তি বা লুণ্ঠিত সম্পদের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।