খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় নানা অনিয়ম, প্রশাসনিক জটিলতা ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শিক্ষা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। শিক্ষকদের বদলি, বেতন-ভাতা, আয়কর জমা, বিদ্যালয় পরিদর্শন এবং শিক্ষক সংযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও সচেতন মহল। তাঁদের দাবি, এসব কারণে ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অনিয়ম, দায়িত্বহীনতা ও প্রশাসনিক জটিলতায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম। বিভিন্ন দাপ্তরিক ফাইল আটকে রাখা, বিদ্যালয় পরিদর্শনে অনীহা, শিক্ষকদের বদলি ও বেতন-ভাতাসংক্রান্ত কাজে বিলম্ব এবং শিক্ষকদের দিয়ে অফিসের কাজ করানোর কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আয়কর জমা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা। তাঁদের দাবি, গত অর্থবছরে প্রসেসিং খরচ বাবদ প্রায় দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে ১৬০ জন শিক্ষকের আয়কর জমা দেওয়ার দায়িত্ব নেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে তা সম্পন্ন করা হয়নি। ফলে শিক্ষকদের ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
এ ছাড়া জেলা পরিষদের অনুমতি ছাড়াই পছন্দের শিক্ষকদের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে সংযুক্তি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে কয়েকটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট তৈরি হয়েছে এবং স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিদ্যালয়ের জায়গা বিক্রি ও ভাড়া দেওয়া, অসাধু শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া এবং বিদ্যালয়ের গাছ বিক্রির অভিযোগেও শিক্ষা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
অন্যদিকে, সময়মতো শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হওয়া, বিদ্যালয় চলাকালে ব্যবসা-বাণিজ্য ও হাটবাজারে সময় কাটানোর প্রবণতা বাড়ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শন ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়াকে এর অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, একদিকে দাপ্তরিক কাজে অফিসে গিয়ে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়। ছোট একটি স্বাক্ষরের জন্যও সপ্তাহ পার হয়ে যায়। অন্যদিকে শিক্ষক সংকটের কারণে বাড়তি ক্লাস নিতে হচ্ছে। এতে পাঠদান ও প্রশাসনিক কাজ দুটোই ব্যাহত হচ্ছে।
অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষা প্রশাসনের এসব সমস্যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে শিক্ষার্থীদের ওপর। নিয়মিত তদারকি না থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান কমে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, তাঁর স্বাক্ষরে করা একজন শিক্ষকের সংযুক্তি বাতিল করা হয়েছে। আগামী বার্ষিক পরীক্ষার আগে আর কোনো সংযুক্তি বাতিল করা হবে না। তবে উপজেলায় কতজন শিক্ষক সংযুক্তিতে রয়েছেন, সে তথ্য তিনি জানাতে পারেননি।
খাগড়াছড়ি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিখিল মৃধার বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এ অবস্থায় অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী ও সচেতন মহল।