লক্ষ্মীপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে খোরশেদ আলম (৩৫) নামে এক মাটি ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের দিলশাদপুর গ্রামের খাঁনের বাড়ির সামনে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহত খোরশেদ ওই গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, মাটির ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের গুলিতে তিনি নিহত হয়েছেন।
নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে, মাটির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে খোরশেদকে ডেকে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে পুলিশের তদন্তের ফল এখনো জানা যায়নি।
নিহতের স্ত্রী আকলিমা আক্তার ও মেয়ে প্রেমা আক্তারের অভিযোগ, বুধবার দুপুরে মোরশেদ ও মজিদ নামে দুই ব্যক্তি খোরশেদকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর গুলির শব্দ শুনে তাঁরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, ওয়ালিদ নামে এক ব্যক্তি খোরশেদকে গুলি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিবারের দাবি, মাটির ব্যবসা নিয়ে ওয়ালিদ এর আগেও খোরশেদকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। পূর্ববিরোধের জের ধরেই তাঁকে ডেকে নিয়ে গুলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জহিরুল ইসলাম রনি জানান, খোরশেদকে হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। তাঁর বুকে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিহত খোরশেদ এলাকায় খোরশেদ বাহিনীর প্রধান হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, খোরশেদ বাহিনীর প্রধান হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
মাটির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধ, পূর্বের হুমকির অভিযোগ এবং প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
kalprakash.com/IM