ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় বেড়ে ৪৭ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের কংগ্রেসে জমা দেওয়া সর্বশেষ মূল্যায়নে এ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টিআরটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বিতভাবে শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক অভিযানের ব্যয়ের হিসাব সংকলন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। গত ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত হালনাগাদ করা এই হিসাবে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরের শুরুতে যুদ্ধের ব্যয় ছিল প্রায় ৪৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। এক মাসের ব্যবধানে তা আরও ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধের বিপুল ব্যয়ের তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় রাজনৈতিক বিতর্কও বাড়ছে। বিশেষ করে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা, জ্বালানির বাজারে এর প্রভাব এবং সরকারি ব্যয় নিয়ে রিপাবলিকান পার্টির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক অভিযান নতুন করে জোরদার করার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুদ্ধের ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ যাচ্ছে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ পুনরায় মজুত এবং প্রতিস্থাপনের কাজে। এ খাতে ব্যয় প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ও টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র পুনরায় মজুত করতে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর পুনর্নির্মাণ করতেই কয়েক মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হচ্ছে।
এ ছাড়া সরাসরি সামরিক অভিযান পরিচালনায় ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। সামরিক সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতির ক্ষয়ক্ষতি এবং ধ্বংসের কারণে ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারে।
মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন শাখার ব্যয়ের হিসাবেও বড় পার্থক্য রয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাহিনীর ব্যয় সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৭ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। সেনাবাহিনীর ব্যয় ২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে নৌবাহিনীর পেছনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার।
যুদ্ধের ব্যয় বাড়তে থাকায় কংগ্রেসেও এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। হোয়াইট হাউস মধ্যপ্রাচ্যে কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য ৯৫ বিলিয়ন ডলারের বিশেষ সহায়তা প্যাকেজের পাশাপাশি ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে সামরিক অভিযানের ব্যয়, অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ সামরিক পদক্ষেপের অর্থায়ন নিয়ে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর দিকে ট্রাম্প সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছিলেন। কিন্তু সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় ব্যয়ও বেড়েছে। নির্বাচনের পর নতুন করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব এবং জ্বালানির বাজারে সম্ভাব্য চাপ মার্কিন রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সামরিক ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ পাওয়ায় প্রতিরক্ষা বাজেট ও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে।
সূত্র: টিআরটি
kalprakash.com/IM