শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬ | ১২ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৪ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | রাত ১২:৩২:০৩

জ্বালানি সংকটে মোংলা বন্দরে পণ্য খালাস ব্যাহত, বাড়ছে আমদানিকারকদের ক্ষতি

কাল প্রকাশ
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২৯
শেয়ার: mail
জ্বালানি সংকটে মোংলা বন্দরে পণ্য খালাস ব্যাহত, বাড়ছে আমদানিকারকদের ক্ষতি

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের ঘাটতির কারণে মোংলা বন্দরে পণ্য খালাস কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় তেল না পাওয়ায় বন্দরে আসা বড় বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত লাইটার জাহাজগুলো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। ফলে আমদানিকারক ও শিল্প উদ্যোক্তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

লাইটার জাহাজ সংশ্লিষ্টরা জানান, তেলের অভাবে অধিকাংশ জাহাজ নদীতে অলস অবস্থায় পড়ে আছে। বহির্নোঙরে থাকা মাদার ভেসেল থেকে খাদ্যপণ্য, সার ও শিল্প কারখানার কাঁচামাল খালাসে জট তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের বেশি জাহাজ অবস্থান করায় বাড়তি চার্জ গুনতে হচ্ছে আমদানিকারকদের।

জানা গেছে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে চট্টগ্রামের ডিপোগুলো থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। রাষ্ট্রীয় সংস্থা পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা থেকে সীমিত পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। ফলে পশুর নদীতে শতাধিক লাইটার জাহাজ চলাচল বন্ধ রেখে অপেক্ষা করছে।

এমভি আর রশিদ-১ লাইটার জাহাজের মাস্টার মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম জানান, জ্বালানি না পাওয়ায় গত এক সপ্তাহ ধরে জাহাজটি নদীতে আটকে রয়েছে। তেল সংকটের কারণে বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে যেতে পারছেন না তারা। এমভি মিমতাজ লাইটার জাহাজের মালিক মো. খোকন বলেন, মোংলা বাজারের তেল ব্যবসায়ী এসকে এন্টারপ্রাইজকে জানানো হলেও ডিপো থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় জাহাজে তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

রূপসা এলাকায় অবস্থিত সেভেন সার্কেল সিমেন্ট কারখানার উৎপাদন বিভাগের কর্মকর্তা মো. মামুন জানান, কাঁচামাল বহনকারী জাহাজ বন্দরে থাকলেও লাইটার জাহাজের সংকটে পণ্য খালাস করা যাচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন প্রায় ১৭ হাজার মার্কিন ডলার অতিরিক্ত চার্জ দিতে হচ্ছে। শেখ সিমেন্ট কারখানার এজিএম আজাদুল হক বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে কাঁচামাল কারখানিতে আনা সম্ভব হচ্ছে না। এতে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং শ্রমিকরাও অলস বসে আছেন।

মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের মোংলার মেরিন ডিলার মেসার্স নুরু অ্যান্ড সন্স-এর মালিক এইচ এম দুলাল জানিয়েছেন, ডিপো থেকে পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ না হওয়ায় চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের মোংলার ম্যানেজার (অপারেশনস) প্রকৌশলী প্রবীর হীরা জানান, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সীমিত সরবরাহের মধ্যে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তেল বিতরণ করা হচ্ছে।

ব্যবসায়ী মহলের আশঙ্কা, দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে শিল্প উৎপাদন ও আমদানি কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

ট্যাগসমূহ: মোংলা বন্দর

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬ | Globe kalprakash.com

জ্বালানি সংকটে মোংলা বন্দরে পণ্য খালাস ব্যাহত, বাড়ছে আমদানিকারকদের ক্ষতি

বিস্তারিত কমেন্টে