মাদ্রাসার এক শিশু শিক্ষার্থীকে চুমু দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে দ্বিচারিতা, ধর্মীয় মতপার্থক্য ও ন্যায়বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুফতি মোজাম্মেল হক মাছুমি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
স্ট্যাটাসের শিরোনাম দিয়েছেন, চুমু দিলে থাপ্পড়; আতঙ্ক এবং দ্বিচারিতার প্রশ্ন? এতে তিনি শিশু শিক্ষার্থীকে চুমু দেওয়ার ঘটনাকে ঘিরে প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি ধর্মীয় বিভিন্ন আমল নিয়ে মতপার্থক্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।
মুফতি মোজাম্মেল হক মাছুমি তাঁর স্ট্যাটাসে প্রশ্ন করেন, নবীজি ﷺ-এর নাম শুনে আঙুলে চুমু দেওয়া, মা-বাবা, উস্তাদ ও শায়েখের কদমবুসি, মাজার জিয়ারত, মিলাদের কিয়াম এবং ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ উপলক্ষে জসনে জুলুসের মতো বিষয়গুলোতে যাঁরা আপত্তি তোলেন, তাঁদের অবস্থান কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে। এসব প্রসঙ্গ তুলে তিনি ধর্মীয় বিষয়ে ভিন্নমত প্রকাশের ক্ষেত্রে একই মানদণ্ড অনুসরণের আহ্বান জানান।
স্ট্যাটাসে তিনি গাজীপুরের ইমাম ও খতিব মাওলানা রঈস উদ্দীনের মৃত্যুর প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যে, একটি ঘটনায় প্রতিবাদী হওয়ার পাশাপাশি অন্য ঘটনায়ও একইভাবে ন্যায়বিচারের দাবি তোলা উচিত।
এ ছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হওয়া এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মতে, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের অভিযোগের যথাযথ সমাধান করা জরুরি।
শিশু সুরক্ষা ও নিরপেক্ষ তদন্তের গুরুত্ব
শিশুকে চুমু দেওয়ার ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চললেও ঘটনাটির প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রাসঙ্গিক তথ্যপ্রমাণ যাচাই গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর প্রতি যেকোনো আচরণের ক্ষেত্রে তার নিরাপত্তা, সম্মতি, মর্যাদা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা কিংবা কোনো ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষককে একইভাবে দায়ী করাও সমীচীন নয়। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে অভিযোগের ভিত্তিতে যথাযথ তদন্ত এবং প্রমাণের আলোকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
kalprakash.com/IM