বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ | ৬ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১০ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | বিকাল ৪:৩৬:০১
শিরোনাম
● সাজেকে গোলাগুলির ঘটনা, নিরাপদে গন্তব্যে ফিরেছেন পর্যটকেরা ● ক্ষুধামুক্তির সূচকে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ ● চট্টগ্রামে ডবলমুরিং থানায় ছিনতাই চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, ছোরা-কিরিচ উদ্ধার ● চাটমোহরে শারদীয় পুনর্মিলনীতে শাড়ি বিতরণ করলেন এমপি রুমা ● নাটোরের লালপুরে মাজার ও মসজিদের দানবাক্স ভেঙে টাকা চুরি ● ছাত্র আন্দোলন প্রতিহত করতে অর্থ জোগানোর অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতা ফাহাদ এখন বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী! ● আমাকে ফাঁসানো হয়েছে: মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সুইটির শেষ কথায় স্তব্ধ পরিবার ● বিশ্ববাজারে তেল পরিবহনের ভাড়া বেড়েছে ১৭ ডলার ● ৫৯২ কোটি টাকায় খনন হবে দুটি নতুন কূপ, বাড়বে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ● সংবাদ সরাও, নইলে ফল ভুগতে হবে: পলিটিকোকে ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকি ● সাজেকে গোলাগুলির ঘটনা, নিরাপদে গন্তব্যে ফিরেছেন পর্যটকেরা ● ক্ষুধামুক্তির সূচকে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ ● চট্টগ্রামে ডবলমুরিং থানায় ছিনতাই চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, ছোরা-কিরিচ উদ্ধার ● চাটমোহরে শারদীয় পুনর্মিলনীতে শাড়ি বিতরণ করলেন এমপি রুমা ● নাটোরের লালপুরে মাজার ও মসজিদের দানবাক্স ভেঙে টাকা চুরি ● ছাত্র আন্দোলন প্রতিহত করতে অর্থ জোগানোর অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতা ফাহাদ এখন বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী! ● আমাকে ফাঁসানো হয়েছে: মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সুইটির শেষ কথায় স্তব্ধ পরিবার ● বিশ্ববাজারে তেল পরিবহনের ভাড়া বেড়েছে ১৭ ডলার ● ৫৯২ কোটি টাকায় খনন হবে দুটি নতুন কূপ, বাড়বে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ● সংবাদ সরাও, নইলে ফল ভুগতে হবে: পলিটিকোকে ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকি

সংবাদ সরাও, নইলে ফল ভুগতে হবে: পলিটিকোকে ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকি

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪২
শেয়ার: mail
সংবাদ সরাও, নইলে ফল ভুগতে হবে: পলিটিকোকে ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকি

মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকোর তিনটি প্রতিবেদন প্রত্যাহার বা সংশোধনের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং ডিজিটাল আর্কাইভ থেকে প্রতিবেদনগুলো সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে সংবাদমাধ্যমটির বিরুদ্ধে সম্ভাব্য আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে হোয়াইট হাউস।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত সোমবার হোয়াইট হাউসের আইনবিষয়ক প্রধান উইল শার্ফ পলিটিকোর গ্লোবাল এডিটর ইন চিফ জোনাথন গ্রিনবার্গারকে এ বিষয়ে চিঠি পাঠান। বৃহস্পতিবার ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা।

শার্ফের অভিযোগ, পলিটিকোর প্রতিবেদনগুলোতে সুসি ওয়াইলসকে নিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, প্রতিবেদন প্রকাশের আগে হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও এসব তথ্য অস্বীকার করেছিলেন। তবে পলিটিকো এ পর্যন্ত প্রতিবেদনগুলো প্রত্যাহার বা সংশোধন করেনি।

তিনটি প্রতিবেদন ঘিরে বিরোধ

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে গত ১৫ ও ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত পলিটিকোর তিনটি প্রতিবেদন। ১৫ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, সুসি ওয়াইলসের পরিবর্তে অন্য কাউকে নিয়োগ দেওয়ার কথা বিবেচনা করছেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রতিবেদনটিকে ভুয়া খবর বলে অভিহিত করেন।

পরদিন প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আগের প্রতিবেদন প্রকাশের পর হোয়াইট হাউসে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তবে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র প্রতিবেদনটিকে অবিশ্বাস্য রকমের বোকামিপূর্ণ ও মিথ্যা বলে মন্তব্য করেন।

১৬ অক্টোবর প্রকাশিত তৃতীয় প্রতিবেদনে পলিটিকো ইঙ্গিত দেয়, ফক্স নিউজে শন হ্যানিটির অনুষ্ঠানে কেটি জাকারিয়ার সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করেছিলেন সুসি ওয়াইলস। জাকারিয়াকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলার উদ্দেশ্যেই এমনটি করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়। তবে হোয়াইট হাউস ও ফক্স নিউজ উভয়ই এ দাবি অস্বীকার করে।

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই পলিটিকোকে কিছু খুদে বার্তা দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। এসব বার্তায় দেখা যায়, সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা ওয়াইলস নয়, জাকারিয়া নিজেই করেছিলেন। পরদিন নিউইয়র্ক পোস্ট এ তথ্য প্রকাশ করে।

শার্ফের অভিযোগ, এসব তথ্য ও প্রতিবাদ পাওয়ার পরও পলিটিকো প্রতিবেদনগুলো বহাল রেখেছে। তাঁর মতে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অর্থ পেশাগত দায়বদ্ধতা থেকে অব্যাহতি পাওয়া নয়। শার্ফ আরও দাবি করেন, পলিটিকোর এক প্রতিবেদক ওয়াইলসকে প্রতিবেদন থেকে বাদ না দেওয়ার কারণ হিসেবে তাঁকে প্রতিবেদনের মূল আকর্ষণ বলে উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর মতে, এ বক্তব্য আইনগতভাবে উদ্বেগজনক।

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ট্রাম্পের সংঘাত বাড়ছে

পলিটিকোর বিরুদ্ধে এই হুঁশিয়ারি এমন সময়ে এল, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বিরোধ ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পলিটিকো, সিএনএন ও এমএস নাউয়ের সংবাদকর্মীদের ওভাল অফিস এবং প্রেসিডেন্টের উড়োজাহাজ এয়ার ফোর্স ওয়ানে সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ সীমিত বা বন্ধ করা হয়েছিল।

এ ছাড়া সংবাদমাধ্যমগুলোর হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে প্রবেশাধিকার নিয়েও বিরোধ তৈরি হয়। গত ১৩ অক্টোবর এক বিচারক তাঁদের প্রবেশাধিকার পুনর্বহাল করেন। অন্যদিকে, এয়ার ফোর্স ওয়ানে প্রবেশাধিকার এবং প্রেসিডেন্টের সফরসঙ্গী টেলিভিশন সংবাদমাধ্যমগুলোর সম্মিলিত সংবাদ সংগ্রহকারী দলে অংশ নেওয়ার সুযোগ ফিরে পেতে বুধবার আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দেয় সিএনএন।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেও একই ধরনের বিরোধ দেখা দেয়। মেক্সিকো উপসাগরকে আমেরিকা উপসাগর নামে অভিহিত করার বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) ওভাল অফিস ও এয়ার ফোর্স ওয়ানে সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। পরে এক ফেডারেল বিচারক এপির প্রবেশাধিকার পুনর্বহাল করেন।

এদিকে, নিউইয়র্ক টাইমস চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসের জেমস এস ব্র্যাডি প্রেস ব্রিফিং রুম থেকে সাংবাদিকদের সরিয়ে সেখানে সুইমিং পুল নির্মাণের কথা বিবেচনা করেছেন ট্রাম্প।

সব বিকল্প বিবেচনায় রয়েছে

পলিটিকোর বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, তা স্পষ্ট করেননি শার্ফ। তবে হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, “সব বিকল্পই বিবেচনার টেবিলে রয়েছে।” তাঁর ভাষ্য, ট্রাম্পের আইনবিষয়ক প্রধানের এবারের ক্ষোভ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আলাদা।

পলিটিকোর নতুন ব্যবস্থাপনারও সমালোচনা করেছেন হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা। তাঁদের অভিযোগ, নতুন ব্যবস্থাপনা সংবাদকর্মীদের গুজবনির্ভর প্রতিবেদন প্রকাশে উৎসাহিত করছে। শার্ফ এ ধরনের সাংবাদিকতাকে গসিপ-পেডলিং বা গুজবনির্ভর সাংবাদিকতা বলে আখ্যা দিয়েছেন।

সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে মামলা করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের প্রবণতা রয়েছে। তাঁর উপদেষ্টাদের মতে, সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আগ্রহ এখনো কমেনি।

এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের বাইরের কয়েকজন উপদেষ্টার ধারণা, পলিটিকোর বিরুদ্ধে বিদেশি প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তোলার পথ তৈরি করতে পারেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা। এ ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমটির মালিকানাধীন জার্মান কোম্পানি অ্যাক্সেল স্প্রিঙ্গারের পরিচয় সামনে আনা হতে পারে।

গত শনিবার হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভেন চিয়াং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পলিটিকোকে বিদেশি পরিচালিত অভিযান বলে আখ্যা দেন। তাঁর অভিযোগ, সংবাদমাধ্যমটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ এবং বিভ্রান্তিকর ও ভুল তথ্য ছড়িয়ে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।

পলিটিকোর বিরুদ্ধে হোয়াইট হাউসের এই হুঁশিয়ারি শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপে গড়ায়, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে প্রতিবেদন প্রত্যাহার, প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা এবং আইনি ব্যবস্থার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসন ও সমালোচনামূলক সংবাদমাধ্যমগুলোর মধ্যকার সংঘাত আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

সূত্র: টাইমস নাউ

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

সংবাদ সরাও, নইলে ফল ভুগতে হবে: পলিটিকোকে ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকি

বিস্তারিত কমেন্টে