বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬ | ৬ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১০ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | বিকাল ৫:১৭:২৮
শিরোনাম
● জমির নামজারির নিয়মে বড় পরিবর্তন, আবেদন করবেন যেভাবে ● সোনারগাঁয়ে সার-কীটনাশকের দোকানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ● ছাত্রবিক্ষোভ থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা, নেপথ্যে কি আন্তর্জাতিক বামপন্থী নেটওয়ার্ক? ● হাসপাতালে মঈন খান ● অবৈধ মোবাইল ফোনে রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে চালু হচ্ছে এনইআইআর ● এল নিনোর প্রভাবে পেরুতে দাবানলে প্রাণ গেল ১২ জনের ● আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে: স্পিকার ● সাজেকে গোলাগুলির ঘটনা, নিরাপদে গন্তব্যে ফিরেছেন পর্যটকেরা ● ক্ষুধামুক্তির সূচকে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ ● চট্টগ্রামে ডবলমুরিং থানায় ছিনতাই চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, ছোরা-কিরিচ উদ্ধার ● জমির নামজারির নিয়মে বড় পরিবর্তন, আবেদন করবেন যেভাবে ● সোনারগাঁয়ে সার-কীটনাশকের দোকানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ● ছাত্রবিক্ষোভ থেকে রাজনৈতিক অস্থিরতা, নেপথ্যে কি আন্তর্জাতিক বামপন্থী নেটওয়ার্ক? ● হাসপাতালে মঈন খান ● অবৈধ মোবাইল ফোনে রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে চালু হচ্ছে এনইআইআর ● এল নিনোর প্রভাবে পেরুতে দাবানলে প্রাণ গেল ১২ জনের ● আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ-সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে: স্পিকার ● সাজেকে গোলাগুলির ঘটনা, নিরাপদে গন্তব্যে ফিরেছেন পর্যটকেরা ● ক্ষুধামুক্তির সূচকে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ ● চট্টগ্রামে ডবলমুরিং থানায় ছিনতাই চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, ছোরা-কিরিচ উদ্ধার

ক্ষুধামুক্তির সূচকে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩০
শেয়ার: mail
ক্ষুধামুক্তির সূচকে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষুধা ও অপুষ্টি মোকাবিলায় ধারাবাহিক অগ্রগতি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। বিপরীতে, পাকিস্তানের পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নারীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা, পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মেয়েদের শিক্ষার প্রসারকে বাংলাদেশের এই অগ্রগতির গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত সপ্তাহে প্রকাশিত ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক (গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স–জিএইচআই) প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, ২০০০ সালের পর থেকে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল ক্ষুধা মোকাবিলায় ধারাবাহিক উন্নতি করলেও পাকিস্তানের অগ্রগতির ধারা থেমে গেছে। বরং দেশটিতে ক্ষুধা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।

জার্মানির বনভিত্তিক সংস্থা ওয়েলথাঙ্গারহিলফে, সুইজারল্যান্ডের জুরিখভিত্তিক সহায়তা সংস্থা হেলভেটাস এবং জার্মানির রুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সশস্ত্র সংঘাতবিষয়ক আন্তর্জাতিক আইন ইনস্টিটিউট যৌথভাবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে।

ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে ভারত-পাকিস্তান

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ১৯ দশমিক ২। এই স্কোর দেশটিকে মাঝারি ক্ষুধা পরিস্থিতির শ্রেণিতে রাখে। অন্যদিকে, ভারতের স্কোর ২৪ দশমিক ১, যা গুরুতর ক্ষুধা পরিস্থিতি নির্দেশ করে।

পাকিস্তানের অবস্থা আরও উদ্বেগজনক। দেশটির ক্ষুধা সূচকের স্কোর ২৫ দশমিক ৫, যা ২০১৮ সালের ২৪ দশমিক ০ স্কোরের তুলনায় খারাপ। সূচকে অন্তর্ভুক্ত ১২২টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১০৬তম। দেশটির চেয়ে খারাপ অবস্থানে থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, সিয়েরা লিওন ও সিরিয়া।

দক্ষিণ এশিয়ায় অবশ্য বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে শ্রীলঙ্কা ও নেপাল। তবে ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশের অগ্রগতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

বাংলাদেশের অগ্রগতির পেছনে নারীর কর্মসংস্থান

বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষুধা মোকাবিলায় বাংলাদেশের সাফল্যের অন্যতম কারণ নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবার সম্প্রসারণ।

জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়াকে লন্ডনভিত্তিক আর্থিক বিশ্লেষক জাভেদ হাসান বলেন, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি খাতে নারীদের জন্য বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীরা মানুষের ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়েছেন। এ ছাড়া পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণও বাংলাদেশের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ইসলামাবাদভিত্তিক স্বাধীন অর্থনীতিবিদ নিয়াজ মুর্তাজাও মনে করেন, নারীদের কর্মসংস্থানের ধারাবাহিক উন্নতি বাংলাদেশের ক্ষুধা মোকাবিলায় অগ্রগতিকে সহায়তা করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের পরিস্থিতিও পাকিস্তানের তুলনায় খুব বেশি আলাদা নয়। ভারতের ক্ষুধা সূচকের স্কোর পাকিস্তানের কাছাকাছি হলেও বাংলাদেশ তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে।

পাকিস্তানে কেন বাড়ছে ক্ষুধার সংকট

প্রতিবেদনে পাকিস্তানের ক্ষুধা পরিস্থিতির অবনতির পেছনে কয়েকটি কাঠামোগত সমস্যার কথা উঠে এসেছে। খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, শিশুদের অপুষ্টি, নারীদের সীমিত কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে অপর্যাপ্ত বিনিয়োগ দেশটির পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ুজনিত বিপর্যয়, যা খাদ্য উৎপাদন ও মানুষের খাদ্যপ্রাপ্তির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানকে আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। ২০১৮ সালের তুলনায় দেশটির ক্ষুধা সূচকের স্কোর বেড়ে যাওয়াও পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

চারটি সূচকে নির্ধারিত হয় ক্ষুধার মাত্রা

বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচক চারটি প্রধান সূচকের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়। এগুলো হলো অপুষ্টি বা পর্যাপ্ত খাদ্য না পাওয়া, শিশুমৃত্যু, শিশুদের বয়সের তুলনায় উচ্চতা কম হওয়া এবং উচ্চতার তুলনায় শরীরের ওজন কম হওয়া।

সূচকে অপুষ্টি ও শিশুমৃত্যুর জন্য প্রতিটিতে ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ করে গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাকি ৩৩ দশমিক ৪ শতাংশের মধ্যে শিশুদের বয়সের তুলনায় উচ্চতা কম হওয়া এবং উচ্চতার তুলনায় ওজন কম হওয়ার সূচকে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ করে গুরুত্ব দেওয়া হয়। ক্ষুধা সূচকের স্কোর নির্ধারণ করা হয় শূন্য থেকে ১০০-এর মধ্যে। স্কোর যত বেশি, ক্ষুধার পরিস্থিতি তত গুরুতর।

স্কোর ১০-এর নিচে থাকলে ক্ষুধার মাত্রা কম, ১০ থেকে ১৯ দশমিক ৯ হলে মাঝারি, ২০ থেকে ৩৪ দশমিক ৯ হলে গুরুতর, ৩৫ থেকে ৪৯ দশমিক ৯ হলে আশঙ্কাজনক এবং ৫০ বা তার বেশি হলে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

এই হিসাবে বাংলাদেশের ১৯ দশমিক ২ স্কোর মাঝারি ক্ষুধা পরিস্থিতি নির্দেশ করে। বিপরীতে, ভারত ও পাকিস্তানের স্কোর গুরুতর ক্ষুধা পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।

সামগ্রিকভাবে, নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক অবকাঠামোর উন্নয়ন ক্ষুধা মোকাবিলায় বাংলাদেশের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে, পাকিস্তানের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এবং কার্যকর সামাজিক নীতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

ক্ষুধামুক্তির সূচকে ভারত-পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ

বিস্তারিত কমেন্টে