ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসনের কঠোর হুঁশিয়ারি ও নিয়মনীতি উপেক্ষা করে রুহিয়া উপজেলার ঢোলারহাট ও রাজাগাঁও ইউনিয়নের টাঙ্গন নদীতে চলছে অবৈধ বালু উত্তোলন। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এই অবৈধ ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দিনে ও রাতে সমানতালে বালু তোলার ফলে একদিকে ধ্বংস হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ, অন্যদিকে ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে শত শত বিঘা আবাদি জমি ও নদীতীরবর্তী বসতি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, যে স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, সেখান থেকে স্থানীয় থানা এবং উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের দূরত্ব মাত্র কয়েক কিলোমিটার। এ বিষয়ে প্রশাসনকে জানানো হলেও এই অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন।
৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী অংশ এই অবৈধ বালু উত্তোলনের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রভাব খাটিয়ে তারা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে এই সিন্ডিকেট চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার একাধিক বালুমহালসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জানান, বালুঘাট চালানোর জন্য তাঁরা প্রভাবশালী নেতাদের কয়েক লাখ টাকা দিয়েছেন। নেতাদের কেন টাকা দিয়েছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তাঁরা বলেন, টাকা না দিলে তাঁদের হামলা-মামলার হুমকি দেওয়া হয়। দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে নদী দখল করে বালু বিক্রির এই মহোৎসবে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।
নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার ফলে নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ইতিমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বহু কৃষিজমি ও গাছপালা। বর্ষা মৌসুম এলেই ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটান তীরবর্তী মানুষ। এ ছাড়া অতিরিক্ত বালুবাহী ট্রাক্টর চলাচলের কারণে এলাকার গ্রামীণ রাস্তাঘাট ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। উড়ে চলা বালুর কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন শিশু ও বয়স্করা।
এ বিষয়ে এলাকাবাসী অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় তাঁরা কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এ বিষয়ে রুহিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলাউদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি জানান, ‘অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে এবং প্রমাণ সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের এই গতানুগতিক আশ্বাসের বাইরে বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
kalprakash.com/IM