প্রযুক্তি ও বাণিজ্যে চীনের ওপর চাপ বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্মার্টফোন, ক্যামেরা, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্যের মান পরীক্ষার কাজে চীনা পরীক্ষাগারগুলোর অংশগ্রহণ বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছে মার্কিন ফেডারেল কমিউনিকেশন কমিশন (এফসিসি)।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবর এফসিসিতে প্রস্তাবটি নিয়ে ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে।
এফসিসির বুধবারের (৭ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যেসব দেশ মার্কিন পরীক্ষাগারগুলোকে সমান বাণিজ্যিক ও পরীক্ষার সুযোগ দেয় না, সেসব দেশের পরীক্ষাগার এবং পণ্য অনুমোদনকারী সংস্থার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এ উদ্যোগের প্রভাব চীনে অবস্থিত পরীক্ষাগারগুলোর ওপর পড়তে পারে।
এফসিসির চেয়ারম্যান ব্রেন্ডন কারের দাবি, দ্বিপক্ষীয় চুক্তি না থাকলেও বর্তমানে প্রায় ৮২ শতাংশ মার্কিন ইলেকট্রনিক পণ্যের মান পরীক্ষা চীনে সম্পন্ন হয়। বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষাগারগুলোতে ৪ শতাংশেরও কম পণ্যের পরীক্ষা করা হয়। বাণিজ্যে পারস্পরিক সমান সুযোগ নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তা তদারকি জোরদার করাই এ প্রস্তাবের লক্ষ্য বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে ২০২৮ সালের ডিসেম্বর থেকে নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে, ২০২৫ সালে চীনা সরকারের মালিকানাধীন বা নিয়ন্ত্রণাধীন পরীক্ষাগারগুলোতে প্রযুক্তিপণ্যের অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল এফসিসি। ওই পদক্ষেপে কয়েকটি চীনা পরীক্ষাগার কালো তালিকাভুক্ত হয়।
এ ছাড়া গত বছরের ডিসেম্বরে চীনে তৈরি নতুন মডেলের ড্রোন ও ভোক্তা পর্যায়ের রাউটার আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে সংস্থাটি। জাতীয় নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে এর আগেই হুয়াওয়ে ও জেডটিইর মতো চীনা প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের যন্ত্রপাতি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে বৈশ্বিক ইলেকট্রনিক পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা এবং মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর উৎপাদন প্রক্রিয়ায় প্রভাব পড়তে পারে। কারণ, চীনা পরীক্ষাগারগুলোর ওপর নির্ভরতা কমাতে হলে বিকল্প পরীক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং পণ্য বাজারজাতকরণের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার প্রয়োজন হতে পারে।