জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, দর্শন, মানবতাবাদ, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নিয়ে তেজগাঁও কলেজে ‘নজরুল’ শীর্ষক সেমিনার ও আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) কলেজের অডিটোরিয়াম-১-এ এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তেজগাঁও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক শামীমা ইয়াসমিন।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি ও কথাসাহিত্যিক মিনার মনসুর। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন তেজগাঁও কলেজের ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক নুর নবী আল মাহমুদ, ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল আলমসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকর্ম, বিদ্রোহী চেতনা, মানবিক মূল্যবোধ এবং সমকালীন সমাজে তাঁর সাহিত্য ও দর্শনের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা হয়। বক্তারা নতুন প্রজন্মের মধ্যে নজরুলের সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িকতার মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
স্বাগত বক্তব্য ও সভাপতির ভাষণে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক শামীমা ইয়াসমিন বলেন, নজরুল আমাদের সাহিত্যের অমৃত অহংকার। এক জীবনে তাঁর অর্জন শিল্প-সাহিত্যের জগৎ থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রকে বিপুলভাবে আলোকিত করেছে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াইয়ের প্রেরণা জুগিয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, যুগসন্ধিক্ষণে কাজী নজরুল ইসলামের আবির্ভাব ছিল অত্যন্ত সময়োচিত। তাঁর মানবতাবাদী সৃষ্টিসম্ভার তাঁকে কালোত্তীর্ণ করেছে। উপমহাদেশে আজও রাষ্ট্র ও সমাজ যখন বিভেদ, অবিশ্বাস ও সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে, তখন প্রেমিক কবি নজরুলের অদ্বৈতবাদী ও সমন্বয়ী চেতনাকে কর্মে ধারণ করার এখনই উপযুক্ত সময়।
তিনি আরও বলেন, কবির কাব্য, গল্প, উপন্যাস, ভাষণ, গজল, ইসলামি সংগীত, শ্যামাসংগীত ও ভক্তিগীতিসহ তাঁর সব সৃষ্টি কালের অশনিসংকেত উপলব্ধি করে মহামিলনের সুর বাজিয়ে গেছে। মানবতাবাদী কবির এই দর্শন আগামী দিনের মানুষের হৃদয়ের বাণী ও জাগরণসংগীত হয়ে উঠবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
আলোচনা পর্ব শেষে গল্প পাঠ, কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।