ময়মনসিংহের নান্দাইলে পূর্বশত্রুতা ও জমি নিয়ে বিরোধের জেরে কৃষক শফিকুল ইসলাম সবিকে কুপিয়ে হত্যার মামলায় তিন ভাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় আরও ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহের প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সামছুদ্দিন এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি হলেন মোজাম্মেল হক স্বপন, আপন মিয়া ও রিপন মিয়া।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন আবু বকর সিদ্দিক, কাঞ্চন মিয়া, রুবেল, পারভেজ, মোফাজ্জল হোসেন, কাশিদ, আল-আমিন, সুমন মিয়া, নয়ন মিয়া ও আসাদুল।
এ ছাড়া যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাঁদের আরও এক বছর সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি নান্দাইল উপজেলার চর ভোলামরি এলাকার হযরত আলীর ছেলে কৃষক শফিকুল ইসলাম সবি স্থানীয় চর ভেলামারী চৌরাস্তা খেয়াঘাট এলাকার একটি কাপড়ের দোকানে বসেছিলেন। এ সময় জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান। একপর্যায়ে তাঁকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে নান্দাইল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়।
মামলার তদন্ত শেষে আদালতে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। মামলায় ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে উভয়পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
ময়মনসিংহ আদালত পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলার ১৩ আসামির মধ্যে ১১ জনের উপস্থিতিতে আদালত রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রিপন মিয়া এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আসাদুল বর্তমানে পলাতক।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আনোয়ার আজিজ টুটুল। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট এ.কে.এম. আমানউল্লাহ বাদল।
kalprakash.com/IM