ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন মাঠে শুরু হয়েছে আগাম আলু ও শীতকালীন সবজির আবাদ। বাজারে আগাম সবজির ভালো দাম পাওয়ার আশায় অনেক কৃষক অন্যান্য ফসলের পরিবর্তে শীতকালীন সবজি চাষে ঝুঁকছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ১২৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে, যা এখনো চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে ১৩১ হেক্টর জমিতে ফুলকপি এবং ৫১ হেক্টর জমিতে বাঁধাকপি চাষ করা হয়েছে। মাঠজুড়ে এখন চলছে জমি প্রস্তুত, বীজ রোপণ, পরিচর্যা ও সেচের কাজ।
উপজেলার ভালাপাড়া, ভরনিয়া, উমরাডাঙ্গী, রাউৎনগর ও বাচোর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা আগাম আলুর বীজ রোপণে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। একই সঙ্গে ফুলকপি ও বাঁধাকপির খেতেও চলছে সেচ ও পরিচর্যার কাজ।
কৃষকেরা জানান, আগাম আলু ও সবজি বাজারে তুলতে পারলে সাধারণ সময়ের তুলনায় ভালো দাম পাওয়া যায়। ফলে উৎপাদন খরচ কিছুটা বেশি হলেও আগাম চাষে লাভের সম্ভাবনাও বেশি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ভালো ফলন ও দাম পাওয়ার আশা করছেন তাঁরা।
ভালাপাড়ার কৃষক আব্দুল কুদ্দুশ বলেন, আলু ও শীতকালীন সবজি চাষে খরচ বাড়লেও বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে সেই খরচ উঠে লাভ হবে। তবে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লায়লা আরজুমান বলেন, আগাম সবজি চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় কৃষকদের নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন এবং সঠিক মাত্রায় সার ও বালাইনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে রাণীশংকৈলে আগাম আলু ও শীতকালীন সবজির ভালো ফলন হবে। এতে কৃষকেরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়বে।
kalprakash.com/IM