সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬ | ১৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২২ রবিউস সানী, ১৪৪৮ | সকাল ১০:১২:৫৭
শিরোনাম
● পাবনায় মাদকাসক্ত যুবককে কুপিয়ে হত্যা ● কসবায় কলেজে কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কার, মতবিনিময় সভা ● ‎বেলঘরিয়া হাট ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষের অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ● কসবায় স্কুলে ডিজিটাল ল্যাব উদ্বোধন, জিপিএ-৫ পাওয়াদের সংবর্ধনা ● ডেঙ্গু রুখতে মণিরামপুরে জামায়াতের র‍্যালি ● নাসিরনগরে ১৩ বছরের শিশু নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার ● মণিরামপুরে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ ● আইল কাটায় বিধবার হাত ভাঙার অভিযোগ সাবেক সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে ● চুয়াডাঙ্গায় মাদক মামলায় আমৃত্যু কারাদন্ড ● ১০ টাকার নোট তুলতে গিয়ে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু ● পাবনায় মাদকাসক্ত যুবককে কুপিয়ে হত্যা ● কসবায় কলেজে কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কার, মতবিনিময় সভা ● ‎বেলঘরিয়া হাট ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষের অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ● কসবায় স্কুলে ডিজিটাল ল্যাব উদ্বোধন, জিপিএ-৫ পাওয়াদের সংবর্ধনা ● ডেঙ্গু রুখতে মণিরামপুরে জামায়াতের র‍্যালি ● নাসিরনগরে ১৩ বছরের শিশু নিখোঁজ, সন্ধান চায় পরিবার ● মণিরামপুরে জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ ● আইল কাটায় বিধবার হাত ভাঙার অভিযোগ সাবেক সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে ● চুয়াডাঙ্গায় মাদক মামলায় আমৃত্যু কারাদন্ড ● ১০ টাকার নোট তুলতে গিয়ে পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু

আইল কাটায় বিধবার হাত ভাঙার অভিযোগ সাবেক সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৫৭
শেয়ার: mail
আইল কাটায় বিধবার হাত ভাঙার অভিযোগ সাবেক সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে

বাড়িতে ওঠা বৃষ্টির পানি বের করতে জমির আইল কাটার কারণে আয়শা খাতুন (৫০) নামে এক বিধবাকে মারধর ও হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক সাবেক সেনা সদস্য ও তাঁর দুই ছেলের বিরুদ্ধে। এই দুই ছেলেও বর্তমানে সেনাবাহিনীতে কর্মরত।

সম্প্রতি পাবনার চাটমোহর উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের নড়াইখালি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর থানায় মামলা করতে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে ভুক্তভোগী ও তাঁর স্বজনেরা হতাশ ও ক্ষুব্ধ।

ভুক্তভোগী আয়শা খাতুন নড়াইখালি গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী। অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম (৫০) একই গ্রামের মৃত ওমেদ আলীর ছেলে। তিনি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট। তাঁর সঙ্গে অভিযুক্ত দুই ছেলে শাহরিয়ার রাব্বি ও রাকিবুল ইসলামও বর্তমানে সেনাবাহিনীতে কর্মরত। ঘটনার দিন তাঁরা ছুটিতে বাড়িতে ছিলেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রবল বর্ষণে বিধবা আয়শা খাতুনের বাড়ির পেছনের জমি তলিয়ে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। সেই জলাবদ্ধতায় বাড়িতেও পানি উঠে যায়। কোনো উপায় না পেয়ে পানি বের করতে গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি জমির আইল কেটে দেন। তা দেখে সাবেক সেনা সদস্য শফিকুলের ভাই রজব আলী, মফিজ উদ্দিন ও মফিজের ছেলে মনিরুল ইসলাম গিয়ে আয়শার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি করেন।

আয়শা ও তাঁর স্বজনদের অভিযোগ, এরপর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ক্ষুব্ধ শফিকুল তাঁর দুই ছেলে রাব্বি ও রাকিবুলকে সঙ্গে নিয়ে আয়শা খাতুনের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে বেধড়ক মারধর করেন এবং হাত ভেঙে দেন। বাধা দিতে গেলে আয়শার মেয়ে ও পুত্রবধূকেও মারধর করা হয়। পরে আশপাশের লোকজন গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক তাঁকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

এ ঘটনায় আয়শা খাতুনের ছেলে আসলাম হোসেন বাদী হয়ে ওই দিন রাতে চাটমোহর থানায় মামলার জন্য লিখিত অভিযোগ দেন। এসআই রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করেন। কিন্তু ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও অজ্ঞাত কারণে থানা পুলিশ মামলা নথিভুক্ত করেনি।

আয়শা খাতুন বলেন, ১৫ বছর আগে তাঁর স্বামী মারা গেছেন। তিন মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন, একমাত্র ছেলে ভ্যান চালান। তিনি বাড়িতে হাঁস-মুরগি পালন করে কোনোমতে সংসার চালান। প্রবল বৃষ্টিতে বাড়িতে পানি উঠে যাওয়ায় বসবাস করতে পারছিলেন না। পানিতে ডুবে ঘরের পেছনের ঢেঁড়সের জমিও নষ্ট হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে তিনি পশ্চিম পাশের আইলটা একটু কেটে দিয়েছিলেন, যাতে পানি বের হয়ে যায়। কিন্তু শফিকুল তাঁর জমির ওপর দিয়ে পানি বের হতে দেবেন না বলে দুই ছেলেকে নিয়ে গিয়ে তাঁকে মেরে হাত ভেঙে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আসলে আমাকে এখান থেকে উচ্ছেদ করতে শফিকুল অনেক দিন ধরে ষড়যন্ত্র করছেন। আমি কী এমন অপরাধ করেছি। আমি এর ন্যায্য বিচার চাই।’

আয়শার ছেলে আসলাম হোসেন বলেন, ‘আমি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। পুলিশ তদন্ত করেছে। কিন্তু মামলা নিচ্ছে না। পরে জানতে পারি, অভিযুক্তরা সেনা সদস্য বলে মামলা নেওয়া যাবে না। আদালতে মামলা করতে বলেছে। কিন্তু এটা কী আইন? আমরা গরিব বলে কি বিচার পাব না?’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সেনা সদস্য দুই ভাই শাহরিয়ার রাব্বি ও রাকিবুল ইসলাম বলেন, জমির আইল কাটা দেখে তাঁরা দুই ভাই দেখতে গিয়েছিলেন, কতটুকু কাটা হয়েছে। সেখানে যাওয়ার পর আয়শার মেয়ে, নাম সম্ভবত ইসমত আরা, তাঁদের ধাক্কা দেন। তাঁরা সেনাবাহিনীতে চাকরি করেন, তাই কথা না বাড়িয়ে নিজেদের সম্মান বাঁচাতে দ্রুত সেখান থেকে চলে আসেন। ওই নারীর সঙ্গে তাঁদের কোনো ধরনের মারধরের ঘটনা ঘটেনি। তাঁর হাত আগে থেকেই ভাঙা ছিল, সেদিন পা পিছলে পড়ে গিয়ে আবার আঘাত পেয়েছেন। এখন তাঁদের ওপর মিথ্যা দোষ চাপানো হচ্ছে।

চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলিউর রহমান বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত করতে গিয়েছিলেন। এর মধ্যে থানার এক এসআই আবুল কালাম আজাদ মারা যাওয়ায় সেটি নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন তাঁরা। আজ রাতে গিয়ে বিষয়টি দেখবেন।

সেনা সদস্য হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হচ্ছে না, আইনে এ ধরনের কোনো বাধ্যবাধকতা আছে কি না জানতে চাইলে ওসি বলেন, কিছুটা বিষয় আছে। তাঁদের ইউনিটকে জানাতে হবে। আইনটা একটু দেখে তারপর জানাবেন।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

আইল কাটায় বিধবার হাত ভাঙার অভিযোগ সাবেক সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে

বিস্তারিত কমেন্টে