শরতের কাশফুলে বদলে গেছে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার যমুনেশ্বরী নদীর চরাঞ্চলের দৃশ্য। নদীর তীরে ও চরের উঁচু জায়গাজুড়ে ফুটেছে সাদা কাশফুল। আর এই সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়। বিশেষ করে বিকেল হলেই পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে কাশবনে ছুটে আসছেন অনেকে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, যমুনেশ্বরী নদীর শিবপুর ব্রিজসংলগ্ন বিস্তীর্ণ চরজুড়ে সবুজ ঘাসের মধ্যে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে কাশফুল। বাতাসে দুলতে থাকা সাদা কাশবন দেখতে দূরদূরান্ত থেকেও কেউ কেউ আসছেন। অনেকে কাশফুলের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছবি ও ভিডিও তুলছেন। কেউ আবার নদীর পাড়ে বসে শরতের এই সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।
দর্শনার্থীদের আনাগোনা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় বিকেলের দিকে। সূর্যের আলো নরম হয়ে এলে কাশফুলের শুভ্রতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এ সময় শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে চরাঞ্চল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছর শরৎকালে যমুনেশ্বরী নদীর চরে কাশফুল ফুটলেও এবার ফুল ফোটার পর থেকেই মানুষের আনাগোনা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। বিকেলে নদীর পাড়ে অনেক মানুষের সমাগম হচ্ছে। কাশবনকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে এক ধরনের দর্শনীয় পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
কাশফুল দেখতে আসা দর্শনার্থী সুলতান মারজান বলেন, ‘কাশফুলের এমন দৃশ্য খুব কাছ থেকে দেখতে ভালো লাগে। পরিবার নিয়ে বিকেলে এখানে এসে সময় কাটাচ্ছি। ছবি তোলার জন্যও জায়গাটি বেশ সুন্দর।’
আরেক দর্শনার্থী মুনতাসিন বিল্লাহ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাশফুলের ছবি দেখে এখানে আসার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এসে দেখলাম, জায়গাটি বেশ সুন্দর। বিকেলে এখানে অনেক মানুষ আসছেন।’
স্থানীয়দের ভাষ্য, যমুনেশ্বরী নদীর শিবপুর ব্রিজসংলগ্ন চরাঞ্চলে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়লেও এখানে কোনো পর্যটনসুবিধা নেই। যাতায়াতব্যবস্থা, বসার জায়গা ও পরিচ্ছন্নতার ব্যবস্থা করা গেলে দর্শনার্থীদের জন্য জায়গাটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
শরতের কাশফুল বাংলার প্রকৃতির চিরচেনা সৌন্দর্যের অংশ। যমুনেশ্বরী নদীর বুকে জেগে ওঠা চর আর সাদা কাশবন দেখতে এখন প্রতিদিনই ছুটে আসছেন মানুষ। ফলে শরৎ মৌসুমে মিঠাপুকুর উপজেলার এই চরাঞ্চল স্থানীয়দের কাছে নতুন এক আকর্ষণের জায়গা হয়ে উঠছে।
kalprakash.com/IM