যশোরের শার্শা ও বেনাপোলে প্রতিদিন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত এক সপ্তাহে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন শিশুসহ ২২ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১২ জন। সারাদেশের মতো এখানেও ডেঙ্গুর প্রকোপ গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে, যে কারণে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।
যশোরের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শা, দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল এবং আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল এলাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ট্রাক, বাস ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে এসব পরিবহন দিনরাত যাত্রী ও পণ্য নিয়ে বেনাপোলে আসছে, ফলে যানবাহনে মশা থাকলে তা এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বন্দর ও টার্মিনালে অবস্থানকারী যানবাহনে নিয়মিত মশা নিধনের ওষুধ স্প্রে করা হলে এডিস মশা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
প্রতিদিন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় উপজেলায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। স্থানীয় সচেতন মহল ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন করা এবং পরিস্থিতি যেন ভয়াবহ রূপ নিতে না পারে সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল নির্মূলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিরুনি অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। পরিষ্কার পানি জমে এমন পাত্র, ফুলের টব, হাঁড়ি-পাতিল, চিপসের প্যাকেট বাড়ির আশপাশে না রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে এবং দুই-তিন দিনের বেশি সময় কোথাও পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে নিয়মিত জানানো হচ্ছে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা বলেন, সরকারি হাসপাতালে তাঁদের চিকিৎসা ঠিকমতো হচ্ছে না। হাসপাতালে ডাক্তার কম, ফ্যান চলে না, লাইট জ্বলে না, গরমে থাকতে কষ্ট হয়। বাড়ি থেকে ফ্যান আনতে হচ্ছে এবং চিকিৎসা নিতে এসে অনেকে আরও অসুস্থ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। তাঁরা সরকারের কাছে হাসপাতালগুলোতে নজর দেওয়ার দাবি জানান, যাতে তাঁরা ভালো চিকিৎসা পেতে পারেন।
শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. তৌফিক পারভেজ বলেন, সারা দেশের মতো শার্শা উপজেলাতেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, এর মধ্যে ৩ বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে। গত মাসের তুলনায় এই সংখ্যা অনেক বেশি বলে জানান তিনি। এ ছাড়া অনেকে বাসায় ও বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি এলাকাবাসীকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিশেষ করে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি দ্রুত সরিয়ে ফেলা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, মশারি ব্যবহার করা এবং জ্বর দেখা দিলেই দ্রুত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা জরুরি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ বলেন, সারা দেশের মতো এই উপজেলায়ও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। শার্শা ও বেনাপোল পৌর এলাকায় মশা নিধন স্প্রে পর্যাপ্ত রয়েছে এবং ইউনিয়নসহ বিভিন্ন এলাকায় মশা নিধন স্প্রে করার কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও চলমান রয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের পাশাপাশি বড় বড় ভবন-মালিকদেরও সচেতন থাকতে হবে এবং মানুষকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে হবে। সরকার ও প্রশাসনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে তাঁরা সচেষ্ট রয়েছেন বলে জানান তিনি এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় সবকিছুর ব্যবস্থা উপজেলা প্রশাসন করবে বলে আশ্বাস দেন।
kalprakash.com/IM