নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার প্রায় দেড় বছর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করলেও, সেই সময়ের নানা অব্যবস্থাপনা ও সিদ্ধান্তগত দুর্বলতার প্রভাব এখন বহন করতে হচ্ছে বর্তমান সরকারকে—এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশাসনিক কার্যক্রমে অযাচিত হস্তক্ষেপের ফলে পূর্বের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনা কাঠামো ভেঙে পড়ে। যার প্রভাব পড়ে স্বাস্থ্য, জ্বালানি, অর্থনীতি ও প্রশাসনের বিভিন্ন খাতে।
স্বাস্থ্য খাতে টিকা সংকট ও রোগের ঝুঁকি
দেশজুড়ে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। হামসহ বিভিন্ন প্রতিরোধযোগ্য রোগের প্রকোপ বেড়েছে বলে জানা গেছে। শুধু হাম নয়, পোলিও, যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ডিপথেরিয়া, ধনুষ্টংকার, হাম-রুবেলা ও হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধে ব্যবহৃত টিকার ঘাটতির খবর আসছে বিভিন্ন জেলা থেকে।
সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) অনুযায়ী টিকা কেনার কার্যক্রম ২০২৫ সালের আগস্টে বাতিল করা হয়, যার ফলে পুরো টিকাদান ব্যবস্থাই সংকটে পড়ে।
জ্বালানি খাতে বিপর্যয়
জ্বালানি খাতেও অস্থিরতা প্রকট হয়ে ওঠে। এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকটে দাম ১৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৭০০ থেকে আড়াই হাজার টাকায় পৌঁছে। অনেক ক্ষেত্রে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং শিল্প-কারখানা ও পরিবহন খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
অর্থনীতি ও বিনিয়োগে স্থবিরতা
অর্থনৈতিক খাতে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। বেসরকারি বিনিয়োগ তলানিতে নেমে গেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি এবং ডলার সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব ছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর জানিয়েছেন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কমছে, রাজস্ব প্রবৃদ্ধিও নিম্নমুখী—যা সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক।
ব্যাংক ও রাজস্ব খাতে অস্থিরতা
পরিকল্পনা ছাড়াই দুর্বল পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার সিদ্ধান্ত এবং শেয়ার শূন্য ঘোষণার মতো পদক্ষেপে আর্থিক খাতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে রাজস্ব প্রশাসনে সংস্কারের নামে সমন্বয়হীনতা ও কর্মকর্তাদের বরখাস্তের ঘটনায় আতঙ্ক তৈরি হয়, যার প্রভাব পড়ে রাজস্ব আয়ে।
প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ও ঋণের বোঝা
প্রশাসনে সমন্বয়হীনতা ও ধীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণে দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। সিটি করপোরেশনে অদক্ষ নিয়োগের ফলে নগর ব্যবস্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, কৃচ্ছ্রসাধনের প্রতিশ্রুতি দিলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ঋণগ্রহণ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকায়। বৈদেশিক ঋণও বৃদ্ধি পায় প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার। এই ঋণের চাপ এখন বর্তমান সরকারের ওপর পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মত
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে অন্তর্বর্তী সরকারের সদিচ্ছার ঘাটতি ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার ফলেই বর্তমান এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে নতুন সরকারকে একাধিক সংকট একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
kalprakash.com/SS
নিজস্ব প্রতিবেদক 

























