টেলিগ্রামে লোভনীয় চাকরির ফাঁদ পেতে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ৯৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। কমিশনের প্রলোভন দেখিয়ে ধাপে ধাপে ওই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত চক্রের আরও দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন জুলহাস উদ্দিন (৩৯) ও প্রহড় (২৮)। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৪ আগস্ট মেহেদি হক নিয়নকে টেলিগ্রাম অ্যাপের একটি আইডি থেকে ‘Zales’ জুয়েলারি নামে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট দেখে চাকরিতে আগ্রহী হন তিনি। এরপরই শুরু হয় প্রতারণার মূল কৌশল।
চক্রটি একটি ফিশিং লিংকের মাধ্যমে নিয়নকে একটি ভুয়া ওয়েবসাইটে যুক্ত করে। সেখানে প্রথমে অনলাইনে অর্ডার সম্পন্ন করলে কমিশন পাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। কমিশন পাওয়ার পর ভুক্তভোগীর আস্থা আরও বাড়ে।
পরবর্তী ধাপে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হয়। একপর্যায়ে জানানো হয়, বিভিন্ন রাউন্ডে মোট ৯০টি অর্ডার সম্পন্ন করতে হবে। প্রতিটি অর্ডারের সঙ্গে ভুক্তভোগীর অ্যাকাউন্টে মুনাফার অঙ্ক দেখানো হতো। এতে তার মনে হয়, বিনিয়োগ করা টাকা দ্রুত লাভসহ ফেরত পাওয়া যাবে।
তবে টাকা উত্তোলনের সময় চক্রটি কৌশল পরিবর্তন করে। মুনাফার টাকা তুলতে হলে আরও অর্ডার সম্পন্ন করতে হবে এবং অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে—এমন নানা অজুহাতে দফায় দফায় টাকা চাওয়া হয়। চক্রটির কথায় বিশ্বাস করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে একাধিকবার টাকা পাঠান নিয়ন। এভাবে তার কাছ থেকে মোট ৯৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ জানান, এ ঘটনায় চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি পল্টন থানায় মামলা করেন নিয়ন। পরে সিআইডি মামলাটির তদন্তভার নেয়। তদন্তে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। এরই মধ্যে এই চক্রের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে কিশোরগঞ্জ সদর থানা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে মামলার ১৯ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি জুলহাস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রহড়কে গ্রেপ্তার করা হয়।
kalprakash.com/IM