যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যকার বহু বছরের কৌশলগত সামরিক প্রতিরক্ষা সম্পর্কে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ ‘লাইটনিং ২’ জয়েন্ট স্ট্রাইক ফাইটার জেট বিক্রির প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। সম্ভাব্য এ চুক্তির আনুমানিক মূল্য ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
প্যাকেজে ৪৮টি যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি ৪৯টি প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি ইঞ্জিন, যোগাযোগ সরঞ্জাম, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এফ-৩৫ এমন একটি স্টেলথ প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান, যা শত্রুপক্ষের রাডারে শনাক্ত হওয়া কঠিন।
মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে একমাত্র ইসরায়েলের কাছেই এ যুদ্ধবিমান রয়েছে। প্রায় এক দশক ধরে দেশটি এফ-৩৫ পরিচালনা করছে।
সম্ভাব্য এ অস্ত্র চুক্তিকে ইতিবাচকভাবে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সৌদি আরব দূতাবাস।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় দূতাবাসটি জানায়, এ সিদ্ধান্ত দুই দেশের ক্রমবর্ধমান সামরিক সহযোগিতা এবং মজবুত কৌশলগত সম্পর্কের প্রতিফলন।
বার্তায় আরও বলা হয়, ‘কয়েক দশক ধরে সৌদি-মার্কিন নিরাপত্তা সহযোগিতা মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় বিশেষ অবদান রেখেছে। এটি আমাদের যৌথ প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে কেবল শক্তিশালীই করেনি, বরং উভয় দেশের পারস্পরিক নিরাপত্তা স্বার্থকে প্রতিনিয়ত এগিয়ে নিয়েছে।’
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম প্রধান নন-ন্যাটো মিত্র হিসেবে সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদার করতেই এ বিক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।
এ চুক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে সৌদি বিমান বাহিনীর সক্ষমতা ও আধুনিকায়ন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সামরিক ও কৌশলগত বিশ্লেষকেরা।
সূত্র: আল-জাজিরা
kalprakash.com/IM