কুমিল্লার দেবিদ্বারে পেশাদার সাংবাদিক ও দৈনিক ইনকিলাবের দেবিদ্বার প্রতিনিধি জনি ফারুকের সামাজিক সুনাম ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে ডিজিটাল কারসাজির মাধ্যমে ভুয়া সংবাদপত্রের কাটিং তৈরি করে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন সাংবাদিক জনি ফারুক।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দৈনিক আলোকিত সংগ্রাম নামের একটি পত্রিকার কৃত্রিম লেআউট তৈরি করে সরকারি খাল দখল, চাঁদাবাজি, মাদক সংশ্লিষ্টতা ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারের মতো অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জনি ফারুক জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দৈনিক ইনকিলাবের দেবিদ্বার প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ডিজিটাল ফটো এডিটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে দৈনিক আলোকিত সংগ্রাম নামের একটি জাল সংবাদপত্রের কাটিং তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে।
ঘটনার নেপথ্যের কারণ হিসেবে জনি ফারুক জানান, দেবিদ্বারে তাঁর পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত রেকর্ডভুক্ত সম্পত্তিতে মাটি ভরাটের কাজ পরিচালনার সময় স্থানীয় সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কাশেম তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, ওই দাবির বিরুদ্ধে তিনি দেবিদ্বার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
জনি ফারুকের অভিযোগ, ওই ঘটনার জের ধরে এবং প্রতিশোধ নেওয়ার উদ্দেশ্যে কাশেম চেয়ারম্যান ও তাঁর অনুসারীরা AI প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভুয়া সংবাদ প্রতিবেদন ও লেআউট তৈরি করে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এতে তাঁর পৈতৃক সম্পত্তিকে সরকারি খাল হিসেবে দেখানো এবং তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় ও দল পরিবর্তন নিয়ে ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
জনি ফারুক বলেন, তিনি একজন নিরপেক্ষ ও পেশাদার গণমাধ্যমকর্মী। কোনো রাজনৈতিক দলের—এনসিপি, জামায়াত বা আওয়ামী লীগের—কর্মী কিংবা নেতা পরিচয়ে সুবিধা নেওয়ার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই। সাবেক এমপি রাজী ফখরুলের সঙ্গে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে তাঁর আগমনের সময় সৌজন্যবশত তোলা একটি সাধারণ ছবিকে রাজনৈতিক সখ্যতার প্রমাণ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, দৈনিক আলোকিত সংগ্রাম নামের ভুয়া সংবাদপত্রের নাম ব্যবহার করে AI প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি একটি জাল ডিজিটাল কাটিং ফেসবুকে ছড়িয়ে তাঁকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া যে স্থানটিকে সরকারি খাল হিসেবে দাবি করা হয়েছে, সেটি তাঁর পৈতৃক সূত্রে প্রাপ্ত রেকর্ডভুক্ত নিজস্ব জমি বলে দাবি করেন জনি ফারুক। তাঁর ভাষ্য, জমিটির সঙ্গে সরকারি খাসজমি বা খালের কোনো সম্পর্ক নেই।
এ ধরনের ডিজিটাল জালিয়াতি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে জনি ফারুক বলেন, AI প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া সংবাদপত্রের কাটিং তৈরি করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের শনাক্ত করে সাইবার ট্রাইব্যুনাল ও স্থানীয় থানায় মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাধারণ জনগণ, সুশীল সমাজ ও সহকর্মীদের এ ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
kalprakash.com/IM