যশোরের ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের এজলাস কক্ষ থেকে দুটি মামলার নথি চুরির অভিযোগে মো. আবু সাঈদ মোল্যা (৫৪) নামের এক শিক্ষানবিশ আইনজীবীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
আটক আবু সাঈদ মোল্যা যশোর সদর উপজেলার জলকর গ্রামের আকেম আলীল্যার ছেলে। এ ঘটনায় ট্রাইব্যুনালের সাঁটমুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর আসাদুল ইসলাম বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে সাঁটমুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর আসাদুল ইসলাম জানান, বুধবার দুপুর ২টার দিকে তিনি ও অফিস সহায়ক আব্দুল বারিক ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের এজলাস কক্ষে দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। এ সময় শিক্ষানবিশ আইনজীবী আবু সাঈদ মোল্যা ট্রাইব্যুনাল কার্যালয়ে এসে ঘোরাফেরা করছিলেন। কিছুক্ষণ পর অফিস সহায়ক মামুন মিয়া জানান, টেবিলে রাখা দুটি মামলার নথি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
এরপর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বিকেল ৩টার দিকে চৌগাছা সিভিল জজ আদালতের বেঞ্চ সহকারী শেখ আব্দুর বাছেদ মোবাইল ফোনে জানান, হারিয়ে যাওয়া দুটি নথিসহ আবু সাঈদ মোল্যাকে তাঁর অফিস কক্ষে আটকে রাখা হয়েছে।
খবর পেয়ে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেখানে গিয়ে নথিসহ তাঁকে আটক করে বিচারক সুমাইয়া কাওসারের সামনে হাজির করেন। বিচারক পুরো ঘটনায় নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দিলে কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) দেবাশীষ হালদার অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে থানায় যান।
এদিকে আটক আবু সাঈদ মোল্যা দাবি করেছেন, তিনি নথি দুটি চুরি করেননি। তাঁর অজান্তেই ডায়েরির সঙ্গে নথি দুটি চলে গিয়েছিল। তিনি জানান, ওই ডায়েরি চৌগাছা সিভিল জজ আদালতে রাখার পর দেখতে পান, ডায়েরির নিচে নথি দুটি রয়েছে। এরপর নথি দুটি চৌগাছা সিভিল জজ আদালতেই রেখে যান বলে দাবি করেন তিনি।
তবে পরবর্তী সময়ে তাঁকে ডেকে এনে আটক করা হয় বলে দাবি করেন আবু সাঈদ মোল্যা।
kalprakash.com/IM