তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অপহরণ ও ডাকাতির মতো গুরুতর অভিযোগে মামলা দায়ের, পরে আপসের নামে টাকা আদায়—এমন ‘মামলা-বাণিজ্যের’ অভিযোগে অতিষ্ঠ পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার রাজারহাট গ্রামের বাসিন্দারা। এ হয়রানি থেকে প্রতিকার চেয়ে ফজলুল হক নামে এক শিক্ষানবিশ আইনজীবীর বিরুদ্ধে পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর লিখিত গণঅভিযোগ দিয়েছেন গ্রামবাসী।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত পাঁচ থেকে ছয় বছরে ফজলুল হক নিজে ও তাঁর স্বজনদের বাদী করে গ্রামের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জনের বিরুদ্ধে শতাধিক মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। তাঁর কথামতো না চললে কিংবা মিথ্যা সাক্ষ্য দিতে রাজি না হলেও নতুন মামলার মুখে পড়তে হয় বলে অভিযোগ করেছেন গ্রামবাসী। সম্প্রতি তাঁর কথামতো সাক্ষ্য না দেওয়ায় তরিকুল ইসলাম ও আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে আটটি মামলা করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
গ্রামবাসীর দাবি, পুলিশ ও পিবিআইয়ের তদন্তে এসব মামলার অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এরপর আব্দুল খালেককে মারধর করে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ ওঠে ফজলুল হকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় সেনাক্যাম্পে অভিযোগ করা হলে সেনাসদস্যদের হস্তক্ষেপে একটি সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে ফজলুল হক জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তবে পরে ওই ফাঁকা স্ট্যাম্প ব্যবহার করেই আদালতে নতুন মামলা দায়ের করেন বলে অভিযোগ করেছেন গ্রামবাসী।
এ ছাড়া এক নারীকে দিয়ে অপহরণ ও গণধর্ষণের অভিযোগে সাজানো মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে। পুলিশি তদন্তে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার পর মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগে ওই নারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পঞ্চগড়ের পুলিশ সুপার আবু সাইম জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ফজলুল হকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।