বরের বাবার ইচ্ছায় পুত্রবধূকে হেলিকপ্টারে চড়িয়ে বাড়িতে আনতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। সুনামগঞ্জ থেকে আকাশপথে চুয়াডাঙ্গায় উড়ে আসেন বরসহ পাঁচ সদস্য। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হেলিকপ্টারটি আসে। গ্রামে ব্যতিক্রমী বিয়ের আয়োজন দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন সব বয়সের মানুষ।
সুনামগঞ্জ জেলার তাহেরপুর উপজেলার পুরানখালস গ্রামের লিয়াকত মিয়ার ছেলে বর সাখাওয়াত হোসেন। কনে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শঙ্করচন্দ্র গ্রামের শাহাজান সেলিমের মেয়ে রওনক জাহান। কনের বাবা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব এবং ছেলের বাবা কয়লা ব্যবসায়ী। বর ও কনে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য স্বামী-স্ত্রী দুজনই বিদেশে পড়াশোনা করতে যাবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে পড়ার সময় দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পড়াশোনা শেষের দিকে হওয়ায় দুই পরিবারের সম্মতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের ২২ অক্টোবর বিয়ের আয়োজন করা হয়। দুই পরিবারে চলে আয়োজন। সড়কপথে সুনামগঞ্জ থেকে চুয়াডাঙ্গার দূরত্ব প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার হওয়ায় এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেয় বরের পরিবার।
বাবার ইচ্ছা ছিল, ছেলের বিয়ের সময় হেলিকপ্টারে করে পুত্রবধূকে বাড়িতে নিয়ে আসবেন। যে কথা, সেই কাজ। বর সাখাওয়াত হোসেনসহ পাঁচজন বরযাত্রী নিয়ে সুনামগঞ্জ জেলার তাহেরপুর উপজেলা থেকে হেলিকপ্টারটি বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় চুয়াডাঙ্গার ডিঙ্গেদহ ফুলবাড়ি মাঠে নামে। এরপর কনেপক্ষের লোকজন বরকে বরণ করে নিয়ে যান। অন্য ১৫ জন বরযাত্রী সড়কপথে আসেন। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে নিয়ে বিকেলে সুনামগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন তাঁরা। আকাশপথে প্রায় ৩০৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে সুনামগঞ্জ থেকে চুয়াডাঙ্গায় আসে বরযাত্রীবাহী হেলিকপ্টার।
গ্রামবাসী জানান, এটি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী বিয়ের আয়োজন। গ্রামে প্রথমবারের মতো হেলিকপ্টারে করে বিয়েতে বর আসেন। বর অনেক ভদ্র। তাঁদের দাম্পত্য জীবন সুখের হোক।
বর সাখাওয়াত হোসেন জানান, বাবার ইচ্ছা ও শখ পূরণে হেলিকপ্টার নিয়ে সুনামগঞ্জ থেকে চুয়াডাঙ্গায় বিয়ে করতে আসেন তিনি। সড়কপথে দূরত্ব অনেক বেশি। চুয়াডাঙ্গার মানুষের ভালোবাসায় তিনি মুগ্ধ।