নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ ও তার পরিবারের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মামলার অপর দুই আসামি হলেন শেখ মামুন খালেদের স্ত্রী নিগার সুলতানা এবং তার শ্যালক শেখ আমিনুর রহমান।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। দুদকের সহকারী পরিচালক পিয়াস পাল বাদী হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধের অভিযোগে সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন।
দুদকের অনুসন্ধান প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক ডিজিএফআই প্রধান শেখ মামুন খালেদের নামে ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৮৬ হাজার ৮৩৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। পারিবারিক ও অন্যান্য খরচসহ তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ কোটি ৩০ লাখ ৮০ হাজার ৬৫৮ টাকা। এর বিপরীতে তার বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ৩ কোটি ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৫৬৩ টাকা। ফলে তার নামে ১ কোটি ৯৫ লাখ ৯৭ হাজার ৯৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মিলেছে।
তার স্ত্রী নিগার সুলতানার নামে ১ কোটি ৮ লাখ ৪৭ হাজার ৭৫১ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য মেলে। তার গ্রহণযোগ্য আয় ১ কোটি ২৩ লাখ ৮৬ হাজার ৯১১ টাকা এবং পারিবারিক ব্যয় ৭৪ লাখ ১৩ হাজার ৯৬৯ টাকা বাদ দিয়ে সম্পদ অর্জনের জন্য প্রকৃত সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪৯ লাখ ৭২ হাজার ৯৪২ টাকা। ফলে তার ক্ষেত্রে ৫৮ লাখ ৭৪ হাজার ৮০৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পায় দুদক।
অন্যদিকে শেখ মামুন খালেদের শ্যালক শেখ আমিনুর রহমানের নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ পাওয়া গেছে ১০ কোটি ৪২ লাখ ৯ হাজার ১২৩ টাকার। পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়সহ তার মোট অর্জিত সম্পদ দাঁড়ায় ১১ কোটি ২৭ লাখ ২৫ হাজার ৩৩৩ টাকা। বিপরীতে তার বৈধ আয় পাওয়া যায় ৫ কোটি ৭৭ লাখ ৩৭ হাজার ৪৭৮ টাকা। ফলে তার নামে ৫ কোটি ৪৯ লাখ ৮৭ হাজার ৮৫৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ পাওয়া গেছে।
দুদক জানায়, অনুসন্ধানে নিগার সুলতানা ও শেখ আমিনুর রহমানের আয়কর নথিতে মৎস্য চাষ থেকে প্রদর্শিত যথাক্রমে ৪০ লাখ ৫৯ হাজার ৯৩০ টাকা এবং ৬ কোটি ৮ লাখ ১৪ হাজার ৮৮৪ টাকার আয়ের পক্ষে কোনো বৈধ ভিত্তি বা রেকর্ডপত্র পাওয়া যায়নি। এমনকি শেখ আমিনুর রহমানের পূর্ববর্তী সঞ্চয় হিসেবে দাবি করা ১ কোটি ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৩৯০ টাকার আয়ের স্বপক্ষেও কোনো প্রমাণ মেলেনি।
kalprakash.com/IM