মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেলের গেজেট এখনো প্রকাশ হয়নি। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রজ্ঞাপনের খসড়া চূড়ান্ত করার কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। আইন মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় আইনি ভেটিং শেষ হলেই চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই এই ঐতিহাসিক গেজেট জারি হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে।
গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। সে সময় সরকারের পক্ষ থেকে সপ্তাহখানেকের মধ্যে গেজেট জারির ইঙ্গিত দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো সম্ভব হয়নি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, খসড়াটি দ্রুতই আইন ও সংসদ বিষয়ক বিভাগে পাঠানো হবে। ভেটিং সম্পন্ন হওয়ার পর গেজেট প্রকাশের চূড়ান্ত দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে। সূত্রমতে, গেজেট প্রকাশের সম্ভাব্য দিন হিসেবে ১৭, ২১ কিংবা ২২ সেপ্টেম্বর নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হলেও এখনো কোনো তারিখ চূড়ান্ত করা হয়নি।
এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গেজেট জারির নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এখনো নির্ধারিত হয়নি। মূলত আইন মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক ভেটিং সম্পন্ন হওয়ার পরই সরকার চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করবে। অন্যদিকে আইন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পে স্কেলের কোনো খসড়া এখনো তাদের দপ্তরে পৌঁছায়নি।
গেজেট প্রকাশে কেন সময় লাগছে? গেজেট প্রকাশে বিলম্ব হওয়া প্রসঙ্গে সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, মন্ত্রিসভার নীতিগত অনুমোদনের পর গেজেট জারির আগে একাধিক জটিল প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এসব প্রক্রিয়া শেষ হতে সাধারণত কয়েক সপ্তাহ বা ক্ষেত্রবিশেষে এক মাসও লেগে যেতে পারে।
সাবেক সচিব ড. মো. আনোয়ার উল্ল্যাহ জানান, মন্ত্রিসভায় যে খসড়া অনুমোদিত হয়, তা মূলত বেতন স্কেলের একটি সামগ্রিক রূপরেখা। কিন্তু চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের আগে বিস্তারিত ও সুস্পষ্ট প্রজ্ঞাপন তৈরি করতে হয়। সেখানে বিভিন্ন ক্যাডার, মন্ত্রণালয় এবং বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে নতুন বেতন কাঠামো কীভাবে কার্যকর হবে, তা অত্যন্ত নিখুঁতভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। এছাড়া বেসামরিক প্রশাসনের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, সরকারি ব্যাংক এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর জন্য পৃথক বাস্তবায়ন নির্দেশিকা তৈরি করতেও অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হয়।
ভেটিংয়ের পরবর্তী প্রক্রিয়া প্রজ্ঞাপনের চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত হওয়ার পর তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সেখানে দেশের সংবিধান ও সরকারি চাকরি আইনের সঙ্গে কোনো অসংগতি রয়েছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হবে। ভেটিং শেষে খসড়াটি পুনরায় অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিয়ে তা সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হবে এবং মুদ্রণ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে তা সর্বসাধারণের জন্য গেজেট আকারে প্রকাশিত হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৫ সালের সর্বশেষ অষ্টম জাতীয় পে স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়েছিল ৭ সেপ্টেম্বর। তবে দীর্ঘ প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে প্রায় সাড়ে তিন মাস পর একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করেছিল অর্থ মন্ত্রণালয়।
kalprakash.com/IM