জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ের সঙ্গে প্রতিশোধের কোনো সম্পর্ক নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণ। অনেকে বলছেন ফাঁসির রায় দেখে আমরা ভীষণ খুশি হয়ে গেছি। তবে কারও ফাঁসির আদেশ দেখে অন্ধভাবে আনন্দিত হওয়ার চেয়ে সমাজে প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা যাচ্ছে কি না, সেটিই আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও নীতিগত কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এই রায়ের বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে সরকারের আলাদা করে কিছু বলার নেই। সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ায় আমাদের প্রসিকিউশন টিম তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে দায়িত্ব পালন করেছে।’
পলাতক আসামিদের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা যদি দেশে থেকে ট্রাইব্যুনালে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরে মামলা লড়তেন (কনটেস্ট করতেন), তবে বিচারিক প্রক্রিয়া আরও দৃশ্যমান হতো। আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যে চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন, সরকার তাকে সম্মান জানায় ও স্বাগত জানায়। তবে এর মধ্যে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধস্পৃহা নেই।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাপত্রে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার যে মূল চেতনা ব্যক্ত করা হয়েছিল, রাষ্ট্রে সেই নীতিগুলো সঠিকভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না—সরকার সেটাই নিশ্চিত করতে চায়।’
kalprakash.com/IM