রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের তীব্র যানজট নিরসনে গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও গুলিস্তান—এই চারটি প্রধান আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল দ্রুত নগরীর বাইরে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যমান সরকারি বাস ডিপোগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহারের জোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
তিনি জানান, এর পাশাপাশি গাবতলী টার্মিনালের পাশের নতুন জায়গা কাজে লাগিয়ে তা সম্প্রসারণ, ঢাকার প্রবেশমুখে যানবাহনের চাপ কমানো, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের মহাসড়ক সংলগ্ন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং সিটি করপোরেশনের আওতাধীন টার্মিনালগুলোর আধুনিকায়নের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে বৃহত্তর ঢাকার যানজট নিরসনের জন্য গঠিত জাতীয় কমিটির উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে এসব তথ্য জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রাজধানীর যানজট নিরসনে ইতিপূর্বে যেসব সমন্বিত নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল, সেগুলোর বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। কোন কোন পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব, সভায় মূলত সেসব বিষয় অগ্রাধিকার পেয়েছে। রাজধানীর যানজটের প্রধান কারণগুলোর একটি হলো শহরের ভেতরের সড়কগুলোতে আন্তঃজেলা বাস ও গণপরিবহনের অতিরিক্ত চাপ। এই চাপ কমাতে বিদ্যমান টার্মিনালগুলোর ওপর একক নির্ভরতা কমিয়ে কাঁচপুর ও পূর্বাচলসহ শহরের প্রবেশমুখের ডিপোগুলো ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঢাকার প্রবেশপথে গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলা রোধে গাবতলী টার্মিনালের পরিধি বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। গাবতলীর সংলগ্ন নতুন ফাঁকা জায়গাগুলোকে কীভাবে দ্রুততম সময়ে টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় যুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
হাবিবুর রশিদ বলেন, ‘ঢাকার আশপাশের গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন সংযোগ সড়কের ওপর থাকা অবৈধ স্থাপনা ও ফুটপাত দখল যানজটকে তীব্র করে তোলে। এসব অবৈধ স্থাপনা অবিলম্বে উচ্ছেদ করে সড়কগুলোকে পুরোপুরি যান চলাচলের উপযোগী করতে হবে। কারণ শুধু রাজধানীর ভেতরের সড়ক সংস্কার করলেই চলবে না, বৃহত্তর ঢাকার সঙ্গে সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে হবে।’
সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় থাকা টার্মিনালগুলোর সার্বিক পরিবেশ উন্নত করার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, টার্মিনালগুলোতে আধুনিক বাস কাউন্টার স্থাপন, যাত্রীদের উন্নত নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনায় পূর্ণ শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার এসি বাসগুলোকে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার আওতায় টার্মিনাল ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশন ও পরিবহন মালিকদের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
সভায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার, সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনসমূহের প্রশাসকবৃন্দ, সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সেবা সংস্থার সচিব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
kalprakash.com/IM