ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জুনিয়র শিক্ষার্থী কর্তৃক সিনিয়র এক শিক্ষার্থীকে থাপ্পড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুটি ছাত্রসংগঠনের মধ্যে হাতাহাতি এবং ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের আনাগোনাসহ রামদা, লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্য মহড়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ‘সোচ্চার স্টুডেন্টস নেটওয়ার্ক’।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির ইবি শাখার দপ্তর সম্পাদক নেয়ামাতুল্লাহ ফারিস স্বাক্ষরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এ উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
বিবৃতিতে ছাত্রনেতৃবৃন্দ বলেন, ‘ব্যক্তিগত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কখনোই একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে সংঘাত, ভয় ও চরম আতঙ্কের দিকে ঠেলে দেওয়ার অজুহাত হতে পারে না। শিক্ষাঙ্গনে বহিরাগতদের দেশীয় অস্ত্রের মহড়া, ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের হাতে লাঠিসোঁটা প্রদর্শন এবং পেশিশক্তির নগ্ন বহিঃপ্রকাশ সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলেছে, যা শিক্ষার সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’
নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট করে বলেন, যেকোনো মতপার্থক্য, সাংগঠনিক বিরোধ কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন, শৃঙ্খলা বিধি ও প্রশাসনিক নীতিমালা অনুসরণ করেই নিষ্পত্তি করতে হবে। কোনো ছাত্রসংগঠন কর্তৃক ক্যাম্পাসে ভীতি সৃষ্টি করা, বহিরাগত প্রবেশ করানো কিংবা পেশিশক্তি প্রদর্শন কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
বিবৃতিতে সব ধরনের সন্ত্রাস, সহিংসতা, প্রকাশ্য অস্ত্রের মহড়া ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভীতি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে সোচ্চার স্টুডেন্টস নেটওয়ার্কের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা এবং দেশীয় অস্ত্রসহ যেকোনো ধরনের অস্ত্র বহন ও প্রদর্শনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবিলম্বে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়া সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও ক্যাম্পাস উত্তপ্ত করার ঘটনার সঙ্গে জড়িত সবার বিরুদ্ধে দলীয় পরিচয় কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যথাযথ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় সংগঠনটি।
kalprakash.com/IM