ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে চিহ্নিত ৪৮টি অশুল্ক বাণিজ্য বাধা (নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার্স) ইতোমধ্যে সফলভাবে সমাধান করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যমান আরও ১৩টি বাণিজ্য বাধা দ্রুত দূর করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুকতাদির।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সফররত ইউরোপীয় ইউনিয়নের উচ্চপর্যায়ের এক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ইইউর পারস্পরিক বাণিজ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন অশুল্ক বাধার বিষয়গুলো এর আগে ইইউর পক্ষ থেকেই যৌথ সংলাপে চিহ্নিত করে তুলে ধরা হয়েছিল। সরকার এসব সমস্যা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানে কাজ করছে। এরই মধ্যে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে ৪৮টি বড় বাধা নিরসন করা সম্ভব হয়েছে এবং অবশিষ্ট ১৩টি জটিলতা দূরীকরণের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে চূড়ান্ত উত্তরণের সময়সীমা আরও তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার যে আনুষ্ঠানিক আবেদন বাংলাদেশ করেছে, সে বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জোরালো সমর্থন ও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। চলতি মাসেই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে ইউরোপীয় ব্লকের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের বিষয়েও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান খন্দকার আবদুল মুকতাদির। তিনি বলেন, অদূর ভবিষ্যতে ইইউর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক এফটিএ আলোচনা শুরুর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক প্রস্তুতি ও কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বর্তমানে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বৃহত্তম বাজার। ফলে বিদ্যমান অশুল্ক বাধাগুলো দূর হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ এফটিএ চুক্তি চূড়ান্ত হলে তা বাংলাদেশের সামগ্রিক রপ্তানি খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও টেকসই বাজার সুবিধা বজায় রাখতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
kalprakash.com/IM