খুলনা জেলায় প্রথম দফায় ৯টি উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ২৩ হাজার ১০৫ জন প্রান্তিক কৃষক পাচ্ছেন বিশেষ ‘কৃষি কার্ড’। বর্তমান সরকারের মেয়াদে আগামী পাঁচ বছরে পর্যায়ক্রমে পুরো জেলায় মোট ৩ লাখ ৩৮ হাজার ৬০৩ জন কৃষককে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে।
খুলনা কৃষি দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কৃষকদের নানা সুযোগ-সুবিধা ও সরাসরি প্রণোদনা নিশ্চিত করতে প্রাথমিক পর্যায়ে জেলার ৯টি উপজেলার একটি করে ইউনিয়নকে নির্বাচন করা হয়েছে। এসব ইউনিয়নকে কয়েকটি ব্লকে বিভক্ত করে মাঠপর্যায়ের জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুটি ব্লকের জরিপ কাজ শেষ হয়েছে এবং তৃতীয় ব্লকের কাজ চলমান রয়েছে।
নির্বাচিত ইউনিয়নগুলো হলো—রূপসা উপজেলার নৈহাটি, বটিয়াঘাটা উপজেলার আমিরপুর, দিঘলিয়া উপজেলার গাজিরহাট, ফুলতলা উপজেলার সদর, ডুমুরিয়া উপজেলার ভান্ডারপাড়া, তেরখাদা উপজেলার ছাগলাদাহ, দাকোপ উপজেলার সদর, পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী এবং কয়রা উপজেলা সদর ইউনিয়ন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নেতৃত্বে গঠিত ৭ সদস্যের কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে ৯টি ইউনিয়ন থেকে কার্ড পাওয়ার যোগ্য কৃষকদের শনাক্ত করছেন। এই কমিটি মধ্য আগস্ট পর্যন্ত ১৮ হাজার ৪৭৯ জন যোগ্য কৃষকের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতে পাঠিয়েছে। কৃষকেরা জনতা ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে তাঁদের অনুদানের অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন। প্রতিটি কার্ডের বিপরীতে প্রত্যেক কৃষক বছরে আড়াই হাজার টাকা করে সরাসরি সরকারি অনুদান পাবেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই বিশেষ কার্ডধারী কৃষকেরা অনুদানের পাশাপাশি ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি, রোগবালাই দমনে কারিগরি পরামর্শ, উৎপাদিত কৃষিপণ্য সহজে বিক্রির প্ল্যাটফর্ম, কৃষি বিমা ও বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং স্বল্প সুদে ঋণ ও কৃষি উপকরণে অগ্রাধিকার পাবেন।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. তৌহিদীন ভুঁইয়া জানান, কৃষকেরা ব্যাংকের মাধ্যমে এই আধুনিক কার্ডটি হাতে পাবেন, যা একটি ডেবিট কার্ড হিসেবে কাজ করবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কোনো প্রকার মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই কৃষকেরা প্রতি বছর তাঁদের প্রাপ্য আড়াই হাজার টাকার সরকারি সহায়তা সরাসরি নিজস্ব অ্যাকাউন্টে গ্রহণ করতে পারবেন।
kalprakash.com/IM