রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ২১ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ২৩ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | রাত ৯:০৭:০০
শিরোনাম
ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে আবাসিক মাদ্রাসা, শিশুদের নিরাপত্তার দায় কার? মাদক মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কে এই সারা খলিফা? চলতি সেপ্টেম্বরেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল, ভোট হবে ধাপে ধাপে: ইসি আনোয়ারুল ফ্যাটি লিভার কি সন্তান ধারণে প্রভাব ফেলে? জেনে নিন চিকিৎসকদের পরামর্শ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত অভিবাসীদের সাময়িক আশ্রয় দিতে সম্মত দক্ষিণ আমেরিকার দেশ গায়ানা ডেঙ্গু বিস্তার রোধে দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কচুয়ায় একই পরিবারের ৩ জনকে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ৩ নড়াইলে ৬ মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার বাদশার সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুললেন ইশা রিখী রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকে খেলাপি ঋণ পৌনে দেড় লাখ কোটি টাকা, শীর্ষে জনতা: অর্থমন্ত্রী ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে আবাসিক মাদ্রাসা, শিশুদের নিরাপত্তার দায় কার? মাদক মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কে এই সারা খলিফা? চলতি সেপ্টেম্বরেই ইউপি নির্বাচনের তফসিল, ভোট হবে ধাপে ধাপে: ইসি আনোয়ারুল ফ্যাটি লিভার কি সন্তান ধারণে প্রভাব ফেলে? জেনে নিন চিকিৎসকদের পরামর্শ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত অভিবাসীদের সাময়িক আশ্রয় দিতে সম্মত দক্ষিণ আমেরিকার দেশ গায়ানা ডেঙ্গু বিস্তার রোধে দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কচুয়ায় একই পরিবারের ৩ জনকে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ৩ নড়াইলে ৬ মাদ্রাসাছাত্রকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার বাদশার সঙ্গে বিচ্ছেদ নিয়ে মুখ খুললেন ইশা রিখী রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকে খেলাপি ঋণ পৌনে দেড় লাখ কোটি টাকা, শীর্ষে জনতা: অর্থমন্ত্রী

কোনো মঞ্চ নেই, মাইক নেই; ক্ষণিকের সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী ও জনতার অকৃত্রিম বন্ধন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪০
শেয়ার: mail
কোনো মঞ্চ নেই, মাইক নেই; ক্ষণিকের সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী ও জনতার অকৃত্রিম বন্ধন

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

রোদ, বৃষ্টি কিংবা গভীর রাত—পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, প্রতিদিন দুটি নির্দিষ্ট সময়ে রাজধানীর রাজপথের পাশে কিছু মানুষকে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর ঠিক কখন এই পথ অতিক্রম করবে তা কারও নিশ্চিত জানা নেই; তবুও প্রতিদিনের যাতায়াতের আনুমানিক সময় মাথায় রেখে পরম আগ্রহে অপেক্ষা করেন তাঁরা। প্রত্যাশা একটাই—প্রিয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে একনজর দেখা।

কেউ প্রথম দিন থেকেই অফিসে যাওয়ার পথে দাঁড়িয়ে থাকেন, আবার কেউ জেনে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের নিয়মিত পথ। রিকশার হ্যান্ডেলে হাত রেখে কেউ দাঁড়িয়ে থাকেন, কেউবা দোকানের সামনে কিংবা ফুটপাতে নিত্যদিনের ব্যস্ততা থামিয়ে চোখ রাখেন রাস্তায়। তাঁদের সবার অপেক্ষা সেই কাঙ্ক্ষিত ক্ষণটির জন্য—গাড়ির ভেতরে থাকা মানুষটিকে যেন একবার চোখের দেখা দেখা যায়। দিনের পর দিন একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা এই সাধারণ মানুষগুলো এখন প্রধানমন্ত্রীরও চেনা মুখ হয়ে উঠেছেন। গাড়িবহর নির্দিষ্ট জায়গাগুলোতে পৌঁছালে গতি কিছুটা মন্থর হয়। রাস্তার পাশ থেকে হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানান অপেক্ষমাণ মানুষগুলো; গাড়ির ভেতর থেকেও হাসিমুখে হাত তুলে সেই ভালোবাসার জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

রমনা থানার পাশে যমুনা ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন পাবনার এক বৃদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি এই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি হাতে ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন। প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখে ও হাত নেড়ে অভিবাদন জানিয়ে তারপর সকালের নাশতা সেরে কাজে যোগ দিতেন তিনি। বর্তমানে সেই এটিএম বুথটি স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং তাঁর চাকরিটিও আর নেই। তবুও প্রতিদিন সিকিউরিটি গার্ডের সেই পুরোনো ইউনিফর্ম পরে, হাতে একটি ধানের শীষ নিয়ে তিনি নির্ধারিত সময়ে পুরোনো জায়গাটিতে চলে আসেন। দাঁড়িয়ে থাকেন প্রিয় নেতার গাড়িবহরের অপেক্ষায়। একসময় গাড়ি সামনে আসে; কয়েক সেকেন্ডের এক ঝলক দেখা। এই সামান্য কয়েকটি মুহূর্তের জন্যই তাঁর দীর্ঘ প্রতীক্ষা। দেখা হওয়ার পর মনে একরাশ অনাবিল প্রশান্তি নিয়ে নাশতা সারেন এবং নিজ গন্তব্যে ফিরে যান সেই বৃদ্ধ। এ যেন পথের ধারের এক সাধারণ মানুষ আর চলন্ত গাড়ির মানুষটির মধ্যে গড়ে ওঠা গভীর ও অকৃত্রিম এক ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ।

প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের পথে বনানীর দুবাই মার্কেটের কাছে প্রতিদিন নিয়মিত অপেক্ষা করেন দুজন রিকশাচালক। জীবিকার চরম ব্যস্ততার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি যাওয়ার সময় হলে তাঁরা থমকে দাঁড়ান। গাড়ি কাছাকাছি আসতেই তাঁদের চোখের তারায় খেলে যায় এক অদ্ভুত দ্যুতি; রচিত হয় এক গভীর আবেগময় মুহূর্ত।

বনানী কাঁচাবাজারের কাছেও তৈরি হয়েছে কিছু পরিচিত মুখ। ফুল ও ফল বিক্রেতাদের কেউ কেউ প্রতিদিন কাজের ফাঁকে অপেক্ষা করেন। ফুটপাতের হকারদের মধ্যেও আছেন এমন অনেকে, যাঁরা কাজ থামিয়ে অধীর আগ্রহে চেয়ে থাকেন প্রিয় মানুষটিকে একপলক দেখবেন বলে। আবার রাতের আঁধারে কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউতে একজন দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি ফেরার পথে। কখনো কখনো সেই অপেক্ষা গড়ায় গভীর রাত পর্যন্ত। নাম জানা নেই, কিন্তু দিনের পর দিন একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকায় সেই মুখটি প্রধানমন্ত্রীর কাছেও আর অপরিচিত নেই। রাতে গাড়ি সেখানে পৌঁছালে গতি কিছুটা কমে যায়; গাড়ির ভেতরের বাতি জ্বালিয়ে হাত নেড়ে অপেক্ষমাণ সেই মানুষটির অভিবাদনের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।

দিনের কাজ শেষে রাতে প্রধানমন্ত্রী যখন গুলশানের বাসভবনে ফেরেন, তখন গুলশান ২-এর প্রধান সড়ক থেকে গলির ভেতরের বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও হোটেলের বহু কর্মচারী রাস্তায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন। তাঁদের কাছাকাছি পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ির ভেতরের আলো জ্বালিয়ে দেন, যেন রাতের আঁধারে পথের ধারে অপেক্ষমাণ মানুষগুলো তাঁকে স্পষ্ট দেখতে পান। আলো জ্বলে উঠতেই চেনা মুখগুলোতে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। কেউ হাত নাড়েন, কেউ অপলক চেয়ে থাকেন। চলন্ত গাড়ির ভেতর থেকে প্রধানমন্ত্রীও হাত তুলে তাঁদের ভালোবাসার জবাব দেন। পুরো ঘটনাটি ঘটে মাত্র কয়েক মুহূর্তের মধ্যে। গাড়ি থামে না, কাছে গিয়ে কুশল বিনিময় বা সরাসরি কথা হয় না; তবুও প্রতিদিনের এই ক্ষণিক সাক্ষাতেই গড়ে উঠেছে এক অদ্ভুত মায়ার টান।

শুরুর দিকে এই অপেক্ষা ছিল কেবল পথের পাশের সাধারণ মানুষগুলোর। তাঁরা জানতেন, এই পথ দিয়েই রাষ্ট্রনায়ক যাতায়াত করবেন। তাই একঝলক দেখার আশায় দাঁড়িয়ে থাকতেন। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সেই অপেক্ষা আর একতরফা থাকেনি; পরিচিত মোড়গুলো কাছাকাছি এলে গাড়ির ভেতর থেকে প্রধানমন্ত্রীও আপন দৃষ্টিতে খুঁজে ফেরেন সেই মানুষগুলোকে।

এই সম্পর্কের মধ্যে নেই কোনো রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা, নেই কোনো মঞ্চ, নেই বক্তৃতা কিংবা করতালির কৃত্রিম আয়োজন। আছে শুধু নীরব অপেক্ষা, চেনা কিছু মুখ আর পরস্পরকে খুঁজে নেওয়ার এক গভীর আত্মিক টান। একদিকে পথের ধারে অপেক্ষমাণ খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ, অন্যদিকে চলন্ত গাড়ির ভেতর থেকে তাঁদের খুঁজে ফেরা দেশের প্রধানমন্ত্রী—মাঝখানে সামান্য কয়েক হাতের ব্যবধানে ক্ষণিকের দেখায় নীরবে রচিত হয়েছে এক নিঃস্বার্থ মানবিক বন্ধন।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

কোনো মঞ্চ নেই, মাইক নেই; ক্ষণিকের সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী ও জনতার অকৃত্রিম বন্ধন

বিস্তারিত কমেন্টে