সংরক্ষিত নারী আসনের (পাবনা-সিরাজগঞ্জ) সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা বলেছেন, ‘আমি বাইরে থেকে ভেসে আসিনি। আমার জন্ম এই চাটমোহরে। মায়ের গর্ভ থেকে যেদিন জন্ম নিয়েছি, আমার নাড়ি পোঁতা হয়েছে এই চাটমোহরে। এই চাটমোহরেই আমি বড় হয়েছি, মারা গেলে এখানেই আমার কবর হবে।’
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পাবনার চাটমোহর উপজেলা বিএনপির আয়োজনে পৌর সদরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অনুষ্ঠিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অ্যাডভোকেট রুমা বলেন, ‘চাটমোহরে কোনো বহিরাগতকে মেনে নেওয়া হবে না। বহিরাগতদের কোনো আস্তানা চাটমোহরে হতে দেওয়া হবে না। গত নির্বাচনে দল একজন বহিরাগতকে মনোনয়ন দিয়েছিল। আমি দিন-রাত পরিশ্রম করে তাঁকে চাটমোহরে ২০ হাজার ভোটে বিজয়ী করেছিলাম। কিন্তু তিনি এমপি হতে পারেননি। এখন তিনি দলকে বিভক্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। তাই এই এলাকায় তাঁকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘গত তিন মাস ধরে আমি সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এতদিন এলাকার উন্নয়নের বিষয়গুলো ফেসবুকে তুলে ধরিনি, তবে এখন থেকে দেব। এলাকার সার্বিক উন্নয়ন করব। আপনারা আমার কাছে আসবেন, আমি সবসময় আপনাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করব।’
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন পাবনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট খন্দকার মাকসুদুর রহমান মাসুদ। তিনি বলেন, ‘রুমা পার্লামেন্ট সদস্য, আর আমি জেলা বিএনপির সদস্য সচিব। রুমা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকি করবেন এবং আমি দলীয় সাংগঠনিক বিষয়গুলো দেখব। বহিরাগত কেউ এখানে রাজনৈতিক সুযোগ নিতে পারবে না।’ এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মাহমুদুল আলমের সভাপতিত্বে এবং পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান রবিউল করিম তারেকের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি এ এম জাকারিয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান, মনির উদ্দিন মনি, হরিপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান নজির সরকার, গুনাইগাছা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মওলা, মূলগ্রামের আনোয়ার হোসেন, ডিবিগ্রামের মজনুর রহমান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গোলজার হোসেন, মহিলা নেত্রী শিরিন শিলা, বিলচলনের গোলজার হোসেন এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফুলচাঁদ হোসেন শামীমসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
গণসমাবেশ শেষে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
kalprakash.com/IM