ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় একটি আবাসিক ভবনের তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া তিন মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে দুজন স্বামী-স্ত্রী এবং অপরজন তাঁদের সদ্যোজাত নবজাতক সন্তান।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে আশুলিয়ার হজরত আলীর মালিকানাধীন ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন—নাজমা আক্তার, তাঁর স্বামী আলমগীর হোসেন আলম ও তাঁদের নবজাতক সন্তান। নাজমা দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানার বড় মাগুরা পাকপাড়া এলাকার আতিয়ার রহমানের মেয়ে। তিনি স্থানীয় প্রীতি গ্রুপের একটি পোশাক কারখানায় সুইং হেলপার হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর স্বামী আলমগীর আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণভাবে পান ও সিগারেট বিক্রি করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর থেকেই ওই তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে। এতে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হলে তাঁরা পুলিশে খবর দেন। পরে দিবাগত রাত দেড়টার দিকে আশুলিয়া থানা পুলিশ এসে ফ্ল্যাটের দরজার তালা ভেঙে ভেতর থেকে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করে।
আশুলিয়া থানার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মরদেহের সার্বিক অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুই থেকে তিন দিন আগে তাঁদের হত্যা করা হয়েছে। নাজমা সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। মৃত্যুর পর পেট থেকে নবজাতকটি বেরিয়ে আসতে পারে অথবা নৃশংস ঘটনার সময়ই সন্তানটি ভূমিষ্ঠ হয়ে থাকতে পারে। বিস্তারিত কারণ ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগে আলমগীরের সঙ্গে নাজমার বিয়ে হয়। গত ৯ জুলাই তাঁরা আশুলিয়ার ওই বাসাটি ভাড়া নেন। চিকিৎসকদের মতে আগামী ডিসেম্বরে নাজমার সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারিত ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে বোন শাপলা আক্তারের সঙ্গে নাজমার সর্বশেষ কথা হয়।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, মরদেহ তিনটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে সিআইডির ফরেনসিক টিম ও ঢাকা উত্তর ডিবি পুলিশ।
তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই কীভাবে সন্তান ভূমিষ্ঠ হলো কিংবা নির্যাতনের কারণে এমন মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে কি না, তা ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পরই স্পষ্ট হবে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
kalprakash.com/IM