বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে অবস্থান করেও দলটির শীর্ষ নেতৃত্বে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। বিশেষ করে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার, রাজনৈতিক মামলা, দমন-পীড়ন ও সাংগঠনিক সংকটের মুখে লন্ডন থেকেই একটি প্রযুক্তিনির্ভর ও কার্যকর ভার্চুয়াল কাঠামো গড়ে তুলে দল পরিচালনা করেন তিনি। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকে দেশে না থেকেও দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং আন্দোলনের কৌশল নির্ধারণে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
শারীরিকভাবে দেশে উপস্থিত না থেকেও কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখাই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, ভিডিও কনফারেন্স, স্কাইপ এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি দল পরিচালনা অব্যাহত রাখেন। ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে লন্ডনে বসেই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ৫৪০ জন মনোনয়নপ্রত্যাশীর সাক্ষাৎকার নেন তিনি। বিষয়টি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তোলে এবং নির্বাচন কমিশনও তখন স্পষ্ট জানায় যে, এভাবে সাক্ষাৎকার গ্রহণ নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন নয়।
খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে বিএনপির নেতৃত্ব নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তার মধ্যে দেশে দলের তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ নেতারা মাঠের কর্মসূচি সামলান, আর লন্ডন থেকে বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনা দেন তারেক রহমান। এর ফলে বিএনপির পরিচালনায় মাঠ ও কেন্দ্রীয় নির্দেশনার একটি সফল দ্বিস্তরীয় কাঠামো তৈরি হয়।
শুধু কেন্দ্রীয় রাজনীতিতেই নয়, বিভিন্ন জেলা কমিটি এবং ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনেও তিনি সরাসরি উদ্যোগ নেন। সদস্য নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচিতে লন্ডন থেকেই যুক্ত হয়ে তিনি নিজের প্রাথমিক সদস্যপদ অনলাইনে নবায়ন করেন এবং সংগঠনে মেধাবী ও সৎ ব্যক্তিদের সামনে আনার তাগিদ দেন। একই সঙ্গে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য ও যুগপৎ কর্মসূচি নির্ধারণেও তিনি ভূমিকা রাখেন।
দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক নির্বাসন শেষে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তারেক রহমান দেশে প্রত্যাবর্তন করেন এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দলের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। শারীরিক অনুপস্থিতিকে প্রযুক্তিনির্ভর নেতৃত্বে রূপান্তর ও প্রতিকূল সময়ে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার এ অভিজ্ঞতা তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
kalprakash.com/IM