যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা জোরালো হওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা কমেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলায় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ায় মূল্যবান এই ধাতুর বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক দরপতনের পরও চলতি আগস্টে স্বর্ণের বাজারে জানুয়ারির পর সবচেয়ে বড় মাসিক মূল্যবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (৩১ আগস্ট) গ্রিনিচ মান সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৪৮ দশমিক ১৯ ডলারে নেমে আসে। এর আগে দিনের শুরুতে স্বর্ণের দাম ১৯ আগস্টের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য স্বর্ণের ফিউচার মূল্য শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৯৮ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার স্বর্ণের দাম ৩ শতাংশের বেশি কমেছিল, যা ছিল গত ১০ জুনের পর এক দিনে স্বর্ণের সবচেয়ে বড় দরপতন। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশ জ্যাকসন হোল সিম্পোজিয়ামে দেওয়া বক্তব্যে জানান, মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রায় ফিরছে—এ বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের আস্থা না থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরও কাজ করার প্রয়োজন হতে পারে।
অ্যাকটিট্রেডসের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা বলেন, শুক্রবার কেভিন ওয়ারশের কঠোর অবস্থানের পর থেকেই স্বর্ণের ওপর চাপ রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নতুন উত্তেজনা মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে চলতি বছরের শেষের আগেই ফেডের সুদহার বৃদ্ধির প্রত্যাশা বেড়েছে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের বৈঠকে ফেডের সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখন ৬২ শতাংশে পৌঁছেছে। অথচ ওয়ারশের বক্তব্যের আগে এ সম্ভাবনা ছিল প্রায় ৩৬ শতাংশ।
বিশ্লেষক ইভানজেলিস্তার মতে, স্বর্ণের দাম পুনরায় ৪ হাজার ৬০০ ডলারের ওপরে উঠতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের দুর্বল শ্রমবাজার প্রতিবেদন এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমনের মতো পরিস্থিতি প্রয়োজন। এতে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ফলন ও ডলারের মান কমতে পারে।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা এবং এর জবাবে ইরানের পাল্টা হামলার জেরে সোমবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা আরও বাড়িয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে স্বর্ণের বাজারেও।
তবে সাম্প্রতিক দরপতনের পরও আগস্ট মাসে স্বর্ণের দাম সামগ্রিকভাবে ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। জানুয়ারির পর এটিই স্বর্ণের সবচেয়ে বড় মাসিক মূল্যবৃদ্ধি হতে যাচ্ছে।
গত সপ্তাহে স্বর্ণের দাম তিন মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৯৬ দশমিক ১৮ ডলারে উঠেছিল। দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের তারল্য-সহায়তা হিসেবে বাইব্যাক দ্বিগুণ করার মার্কিন ট্রেজারির ঘোষণার পর মুদ্রার ক্রয়ক্ষমতা কমার আশঙ্কায় স্বর্ণের চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল।
চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের এডিপি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন এবং নন-ফার্ম পে-রোলসের তথ্য প্রকাশের কথা রয়েছে। এসব তথ্য ফেডের ভবিষ্যৎ সুদহার নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফলে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন মার্কিন শ্রমবাজারের পরিসংখ্যানের দিকে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে সোমবার স্পট রুপার দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৭ ডলারে উঠেছে। চলতি মাসে রুপার দাম ১৬ শতাংশের বেশি বেড়েছে এবং শুক্রবার এটি জুনের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছিল।
অন্যদিকে প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৮০২ দশমিক ৪৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১ হাজার ৩৯৪ দশমিক ৮৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে উভয় ধাতুই ডিসেম্বরের পর সবচেয়ে বড় মাসিক মূল্যবৃদ্ধির পথে রয়েছে।
kalprakash.com/IM