শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬ | ১৩ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৫ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | সকাল ৯:৫৭:০৩

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের কাছে যে ৫টি পরামর্শ চাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪০
শেয়ার: mail
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের কাছে যে ৫টি পরামর্শ চাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের নানা কর্মকাণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। তথ্য অনুসন্ধান, লেখালেখি, পরিকল্পনা প্রণয়ন কিংবা বিনোদন—প্রায় সব ক্ষেত্রেই এর ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। এমনকি ব্যক্তিগত অনুভূতি ও জীবনের নানা সিদ্ধান্ত নিয়েও অনেকে এখন এআই চ্যাটবটের পরামর্শ নিচ্ছেন।

তবে প্রযুক্তি ও মনস্তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক না কেন, এটি কখনোই মানুষের বিকল্প হতে পারে না। বিশেষ করে সৌন্দর্য, আবেগ, আত্মমর্যাদা কিংবা আর্থিক বিষয়ের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে এআইয়ের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তত পাঁচটি বিষয়ে এআইয়ের পরামর্শ নেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত:

১. চেহারা ও সৌন্দর্যের মূল্যায়ন: নিজের শারীরিক রূপ, সৌন্দর্য কিংবা পোশাক কেমন হয়েছে—এ ধরনের বিষয়ে এআইয়ের মতামতকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে নেওয়া ঠিক নয়। এআই মডেলগুলো সাধারণত ব্যবহারকারীর সঙ্গে ইতিবাচক ও বন্ধুত্বসুলভ আচরণ করার জন্য প্রশিক্ষিত থাকে। ফলে বাস্তব জীবনের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু যেভাবে অকপটে কোনো খুঁত তুলে ধরতে পারেন, এআইয়ের কাছ থেকে সবসময় তেমন বাস্তবসম্মত মূল্যায়ন পাওয়া যায় না।

২. ভালোবাসা ও আবেগের বিচার: ‘সে কি আমাকে ভালোবাসে?’ কিংবা ‘আমার প্রতি তাঁর অনুভূতি কেমন?’—এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর এআইয়ের কাছে খোঁজা অর্থহীন। এআই কেবল বিভিন্ন তথ্য ও কথোপকথনের ধরন বিশ্লেষণ করে একটি সম্ভাব্য উত্তর তৈরি করতে পারে, তবে মানুষের জটিল আবেগকে বাস্তবভাবে অনুভব বা উপলব্ধি করার ক্ষমতা এর নেই। তাই সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এআইয়ের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি কথা বলা কিংবা অভিজ্ঞ মানুষের পরামর্শ নেওয়াই শ্রেয়।

৩. নিজের বুদ্ধিমত্তা ও আত্মমর্যাদা যাচাই: নিজের বুদ্ধিমত্তা, যোগ্যতা কিংবা ব্যক্তিগত মূল্য নির্ধারণের জন্য এআইকে বিচারক হিসেবে ব্যবহার করা অনুচিত। কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সক্ষমতা বা লেখার মান দেখে একজন মানুষের সামগ্রিক বুদ্ধিমত্তা ও ব্যক্তিত্ব পরিমাপ করা যায় না। এআই বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হলেও মানুষের আত্মমর্যাদা, প্রতিভা ও অভিজ্ঞতার গভীরতা মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে এর সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

৪. গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ: বিনিয়োগ, ঋণ, সঞ্চয়, ব্যবসা কিংবা বড় ধরনের আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে কেবল এআইয়ের তথ্যের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। এআই সাধারণ তথ্য ও সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে পারলেও ব্যক্তির নিজস্ব আয়, সম্পদ, ঝুঁকি নেওয়ার সক্ষমতা ও কর সংক্রান্ত বাস্তব পরিস্থিতি পুরোপুরি বিবেচনা করতে পারে না। তাই বড় আর্থিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আর্থিক উপদেষ্টা বা যোগ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

৫. বাস্তব জীবনের সামাজিক ও মানবিক সহায়তা: এআই অনেক ধরনের তথ্য দিতে পারে কিংবা কাজ সহজ করার উপায় দেখাতে পারে, কিন্তু বাস্তব জীবনের মানবিক সহায়তার বিকল্প হতে পারে না। জরুরি মুহূর্তে কাউকে হাসপাতালে নেওয়া, বিপদে পাশে এসে দাঁড়ানো কিংবা তাৎক্ষণিক মানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো কাজগুলো এআই করতে পারে না।

এআই সহায়ক, মানুষের বিকল্প নয়: বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, এআই মূলত তথ্য, অ্যালগরিদম ও কম্পিউটিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে পরিচালিত হয়। এর নিজস্ব কোনো অনুভূতি, ইচ্ছা বা মানবিক অভিজ্ঞতা নেই। ফলে এআইয়ের সঙ্গে স্বাভাবিক কথোপকথন হলেও সেটিকে মানুষের প্রকৃত সম্পর্কের সমতুল্য ভাবা উচিত নয়। এআইকে তথ্য ও কাজের সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে জীবনের সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে বাস্তব মানুষের অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞের মতামতের গুরুত্বই অপরিসীম।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের কাছে যে ৫টি পরামর্শ চাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ

বিস্তারিত কমেন্টে