বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ | ১১ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১৩ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | রাত ৯:৪৭:৩৯

মোংলা বন্দরে যন্ত্রাংশের ঘোষণায় আনা ৭ কোটি টাকার ৪ বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ

প্রিন্স মণ্ডল অলিফ, বাগেরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২২
শেয়ার: mail
মোংলা বন্দরে যন্ত্রাংশের ঘোষণায় আনা ৭ কোটি টাকার ৪ বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

মোংলা বন্দরে ব্যবহৃত পুরোনো যন্ত্রাংশের মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা চারটি বিলাসবহুল গাড়ির একটি চালান শনাক্ত ও জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। জব্দকৃত গাড়িগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭ কোটি টাকা। সরকারের কোটি কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে পুরো গাড়িগুলোকে বিভিন্ন অংশে কেটে যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

গত ১৯ জুলাই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস গোয়েন্দারা চালানটির খালাস প্রক্রিয়া স্থগিত করে শতভাগ কায়িক পরীক্ষা চালান। এতে কাগজপত্রে দেওয়া ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত অবস্থার গুরুতর অসঙ্গতি ধরা পড়ে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ঢাকার গেন্ডারিয়াভিত্তিক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘ক্রাউন অটো মোবাইল সার্ভিসেস’ জাপানের মাহি কার পোর্ট থেকে চালানটি আমদানি করে। বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-৬৯০৪-এর বিপরীতে ১৬৪টি প্যাকেজে ১৪ ধরনের যন্ত্রাংশের মিথ্যা ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। চালানের ঘোষিত ইনভয়েস মূল্য দেখানো হয়েছিল মাত্র ৭ হাজার ৯৩৫ মার্কিন ডলার।

তবে কায়িক পরীক্ষায় দেখা যায়, এগুলো সাধারণ কোনো খুচরা যন্ত্রাংশ নয়; বরং চারটি বিলাসবহুল গাড়িকে বড় বড় অংশে খণ্ডিত করে যন্ত্রাংশের নামে আনা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্যমতে, চালানটির প্রকৃত বাজারমূল্য সাড়ে ৪ কোটি থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, গাড়িগুলো এমন কৌশলে খণ্ডিত করা হয়েছে, যা পুনরায় জোড়া লাগালে মূল গাড়ির পূর্ণাঙ্গ কাঠামো ও বৈশিষ্ট্য ফিরে পাওয়া সম্ভব। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত পরীক্ষায় দেখা গেছে, গাড়িগুলোর প্রধান বৈদ্যুতিক সংযোগ, ওয়্যারিং ও সংবেদকসহ (সেন্সর) গুরুত্বপূর্ণ সব যন্ত্রাংশ পুরোপুরি অক্ষত রয়েছে।

নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ৬ লাখ ১০ হাজার ৩০ টাকা শুল্ক-কর পরিশোধ করে চালানটি খালাসের অপচেষ্টা করেছিল। অথচ পূর্ণাঙ্গ গাড়ি হিসেবে আমদানি করা হলে এই চালান থেকে সরকারের কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হতো।

জব্দ করা বিলাসবহুল গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে—রেঞ্জ রোভার ভোগ, বিএমডাব্লিউ ৬৫০আই, লেক্সাস এলএক্স৫৭০ এবং টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ‘এসটি ইন্টারন্যাশনাল’ এবং আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা অধিদপ্তর। বর্তমানে গাড়িগুলোর প্রকৃত মূল্য, ইঞ্জিনের সিসি ও মডেল বিবেচনায় চূড়ান্ত শুল্ক-কর এবং জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলছে।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোনো পণ্য খণ্ডিত অবস্থায় আমদানি করা হলেও যদি তাতে মূল পণ্যের অবিচ্ছেদ্য বৈশিষ্ট্য (এসেনশিয়াল ক্যারেক্টার) বিদ্যমান থাকে, তবে সেটিকে সম্পূর্ণ পণ্য হিসেবেই গণ্য করার বিধান রয়েছে। সে কারণেই এই চালানটিকে যন্ত্রাংশ হিসেবে খালাস না দিয়ে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

মোংলা বন্দরে যন্ত্রাংশের ঘোষণায় আনা ৭ কোটি টাকার ৪ বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ

বিস্তারিত কমেন্টে