নাটোরের গুরুদাসপুরে পানিতে ডুবে মারা যাওয়া দুই শিশুর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগে ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করে এই মামলা করা হয়।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গুরুদাসপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে নন্দকুঁজা নদীতে গোসল করতে গিয়ে লাম (৮) ও ফারহান (৯) নামের দুই শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। খবর পেয়ে অপমৃত্যুর ঘটনা তদন্তের দায়িত্বে থাকা এসআই আবুল বাশার ও কনস্টেবল আবু রাকিব ঘটনাস্থলে যান। সন্ধ্যার দিকে নিহত লামের বাড়িতে গিয়ে তাঁরা সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।
পরবর্তীতে নিহত অপর শিশু ফারহানের মরদেহ চন্দ্রপুর ওয়াপদা বাজার সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে নেওয়া হয়েছে জানতে পেরে পুলিশ সদস্যরা সেখানে যান এবং মরদেহের সুরতহাল প্রস্তুত করেন। এরপর ওই ঈদগাহ মাঠেই দুই শিশুর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, জানাজা শেষে রাত সাড়ে ৭টার দিকে দুই শিশুর মরদেহ পরিবারের কাছে লিখিতভাবে হস্তান্তর এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা বললে উপস্থিত কিছু লোক ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি প্রতিকূল দেখে এসআই আবুল বাশার ও কনস্টেবল আবু রাকিব বাজারের একটি দোকানে গিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় উত্তেজিত লোকজন দোকানটি ঘেরাও করে তাঁদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।
পরে রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে পুলিশ সদস্যরা দোকান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে এক ব্যক্তি বাঁশের লাঠি দিয়ে এসআই আবুল বাশারের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। এরপর অন্য হামলাকারীরা লাঠি, কাঠের বাটাম ও লোহার রড দিয়ে দুই পুলিশ সদস্যকে মারধর করে আহত করেন।
প্রাণ বাঁচাতে পুলিশ সদস্যরা স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় গিয়ে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা সেখানেও চড়াও হওয়ার চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে থানা থেকে এসআই এমদাদুল হকের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত দুই সদস্যকে উদ্ধার করে। তাঁদের মধ্যে মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত এসআই আবুল বাশারকে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, জানাজার প্রস্তুতিকালে পুলিশ সদস্যরা কাফনের কাপড় সরিয়ে সুরতহাল তৈরির চেষ্টা করলে উপস্থিত মুসল্লি ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর জেরে পুলিশের সঙ্গে স্থানীয়দের তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয় এবং একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা মারধরের শিকার হন।
ঘটনার পরপরই প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে এসআই আবুল বাশার ও কনস্টেবল আবু রাকিবকে গুরুদাসপুর থানা থেকে প্রত্যাহার করে নাটোর পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার বাদী এসআই এমদাদুল হক এজাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
kalprakash.com/IM