মুসলিম বিশ্বের পারস্পরিক ঐক্য, সংহতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করার বার্তা নিয়ে ইরানের রাজধানী তেহরানে শুরু হয়েছে ৪০তম আন্তর্জাতিক ইসলামী ঐক্য সম্মেলন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তেহরানের সামিট হলে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট আলেম, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, কূটনীতিক, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গসহ প্রায় ছয় শতাধিক দেশি-বিদেশি অতিথি অংশ নেন।
বিশ্ব চিন্তাধারার নৈকট্য ফোরামের মহাসচিব হুজ্জাতুল ইসলাম হামিদ শাহরিয়ারি মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও ইমাম জাফর সাদিক (আ.)-এর পবিত্র জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানসহ সম্মেলনে আগত অতিথিদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে বিগত এক বছরের বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ঘটনাবলি তুলে ধরে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন ও বৈরিতার কঠোর সমালোচনা করেন শাহরিয়ারি। তিনি বলেন, একটি আত্মমর্যাদাশীল ও শক্তিশালী ইরান সমগ্র মুসলিম উম্মাহ এবং বিশ্বের নিপীড়িত জনগণের জন্য এক অনন্য প্রেরণা। তাঁর দাবি, ইরানের সার্বিক অগ্রগতি ও শক্তিশালী অবস্থানকে প্রতিহত করতেই দেশটি বিভিন্ন ধরনের আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ও চাপের মুখোমুখি হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বৈরী আচরণের প্রসঙ্গে শাহরিয়ারি উল্লেখ করেন, প্রতিপক্ষ শক্তিগুলো মূলত ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সক্ষমতা, ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি, উন্নত অবকাঠামো, খনিজ সম্পদ ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি নিয়ে শঙ্কিত। একই সঙ্গে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী, সরকার ও দূরদর্শী নেতৃত্ব ইরানের জাতীয় সংহতি এবং প্রতিরোধ সক্ষমতাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
বক্তব্যে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের মিনাবের শাহারেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন হামলায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে শাহরিয়ারি প্রশ্ন তোলেন, ‘বিদ্যালয়ের নিরীহ শিক্ষার্থীদের হত্যা করে আপনারা কী লাভ করতে পেরেছেন?’ একই সঙ্গে এই নির্মম ট্র্যাজেডির বিষয়ে পশ্চিমা গণমাধ্যমের চরম নীরবতারও সমালোচনা করেন তিনি।
তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, দীর্ঘকাল ধরে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি অবলম্বন করেও যুক্তরাষ্ট্র তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। বরং অভ্যন্তরীণ উদ্ভাবন, সামরিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ইরানকে অঞ্চলে একটি স্থিতিশীল ও শক্তিশালী অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
মুসলিম দেশগুলোতে বিদেশি সামরিক উপস্থিতির কার্যকারিতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শাহরিয়ারি বলেন, আঞ্চলিক দেশগুলো এখন স্পষ্টভাবে অনুধাবন করতে পারছে যে বহিরাগত শক্তির উপস্থিতি কখনোই দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা আনতে পারে না; বরং তা নতুন জটিলতার জন্ম দেয়। তাই আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজেদের পারস্পরিক মেলবন্ধন ও সম্মিলিত সক্ষমতার মাধ্যমেই পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব।
সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, এবারের আন্তর্জাতিক ঐক্য সম্মেলনে ইরাক, পাকিস্তান, তুরস্ক, লেবানন, আফগানিস্তান ও পারস্য উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশসহ বহু রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৬০০ বিশিষ্ট অতিথির উপস্থিতিতে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম চলছে।
kalprakash.com/IM