নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। পাহাড় থেকে নেমে আসা প্রবল স্রোত ও ধ্বংসাবশেষের তোড়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন চার শতাধিক মানুষ, যাদের একটি বড় অংশই বিদেশি পর্যটক। বিশেষ করে কৈলাস মানস সরোবরের তীর্থযাত্রীসহ অন্তত ১৪২ জন ভারতীয় নাগরিকের সন্ধান না মেলায় গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
নেপাল পুলিশের তথ্যমতে, বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ১৬২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ও বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলো থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার জোর তৎপরতা চলছে।
নেপালের পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুর্যোগ আঘাত হানার পর থেকে অন্তত ৪০৩ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩৪১ জনই বিদেশি নাগরিক।
নেপাল পর্যটন বোর্ড নিশ্চিত করেছে, নিখোঁজ বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে ১৪২ জন ভারতীয় নাগরিক ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক রয়েছেন। বিশেষ করে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র তীর্থস্থান কৈলাস মানস সরোবরগামী বহু পুণ্যার্থী এই দুর্যোগের কবলে পড়ে নিখোঁজ হওয়ায় উৎকণ্ঠা চরম আকার ধারণ করেছে।
পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে নেমে আসা বিপুল পরিমাণ কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া জীবিতদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন নেপালি উদ্ধারকর্মীরা। একই সঙ্গে চাপা পড়ে থাকা মরদেহ উদ্ধারে ভারী যন্ত্রপাতি ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন ও এলাকা দুর্গম হওয়ায় উদ্ধারকাজ পরিচালনা করতে চরম প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে উদ্ধারকারী দলকে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সমস্ত সক্ষমতা ও সম্পদ কাজে লাগানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ। তিনি উদ্ধার তৎপরতা, জরুরি ত্রাণ বিতরণ এবং দুর্গতদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম আরও গতিশীল করার নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নিখোঁজদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে।
kalprakash.com/IM