হেলিকপ্টারের একটানা শব্দ আর অ্যাম্বুলেন্সের তীব্র সাইরেনে ভারী হয়ে উঠেছে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর আকাশ-বাতাস। নেপাল-তিব্বত সীমান্তের আকস্মিক বন্যায় মারাত্মকভাবে আহত ও দুর্যোগকবলিত এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের জরুরি চিকিৎসার জন্য আকাশপথে কাঠমান্ডুর বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে। অন্যদিকে কাদা ও পানির তোড়ে ভেসে যাওয়া প্রিয়জন বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন—শুধু এই খবরটুকু জানতে মধ্যরাতেও হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ভিড় করছেন শত শত স্বজন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে প্রতিটি হেলিকপ্টার অবতরণের পরই তৈরি হচ্ছে এক হৃদয়বিদারক ও উদ্বেগজনক পরিস্থিতি। স্ট্রেচারে থাকা আহত ব্যক্তির মুখটি চেনার আশায় ব্যাকুল হয়ে ছুটে যাচ্ছেন স্বজনেরা। দুর্গত এলাকা রাসুয়ায় কাজ করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া এক গাড়িচালকের স্ত্রী রাম কুমারী শ্রেষ্ঠা ব্যাকুল চোখে হাসপাতালের প্রবেশদ্বারে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আগের রাতের পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাইনি। মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। তিনি বেঁচে আছেন কি না, শুধু এটুকু জানতেই হাসপাতাল থেকে হাসপাতালে ছুটে বেড়াচ্ছি।’
বিবিসি নেপালির প্রতিবেদক শ্রীজনা শ্রেষ্ঠা জানান, দুর্যোগের ভয়াবহতা এতটাই তীব্র যে আহত ব্যক্তিদের নিয়ে একের পর এক হেলিকপ্টার জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নামছে।
kalprakash.com/IM